সরস্বতী পুজোর আগে কুল খেলেই কি রুষ্ট হন দেবী? আসল কারণ জানলে অবাক হবেন
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

সরস্বতী পুজোর আগে কুল খাওয়া নিয়ে আজও বহু মানুষের মনে দ্বিধা কাজ করে। পড়াশোনা শেষ হয়ে গেলেও বাগদেবীর আরাধনার আগে কুল মুখে তুলতে চান না অনেকেই। বিশ্বাস, পুজোর আগে কুল খেলে দেবী সরস্বতী অসন্তুষ্ট হন। ছোটবেলা থেকেই অভিভাবকদের কাছ থেকে এই ধারণা শোনার ফলে বয়স বাড়লেও সেই ভয় অনেকের মন থেকে যায় না। কিন্তু সত্যিই কি দেবী রুষ্ট হন, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও যুক্তি? বিষয়টি জানলে অনেকেই চমকে উঠবেন।
লোককথা অনুযায়ী, কুল নাকি দেবী সরস্বতীর অত্যন্ত প্রিয় ফল। ভারতীয় সংস্কৃতিতে নতুন ফসল প্রথমে ঈশ্বরকে নিবেদন করার রীতি রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই কুল আগে দেবীকে উৎসর্গ করে তারপর খাওয়ার প্রথা চালু হয়। বিশ্বাস ছিল, দেবীর প্রিয় ফল নিবেদন না করে খাওয়া মানে তাঁকে অবজ্ঞা করা। এই সূক্ষ্ম ভাবনা ছোটদের বোঝানো কঠিন হওয়ায় সহজ করে বলা হত—সরস্বতী পুজোর আগে কুল খেলে দেবী রেগে যান।
তবে এই বিশ্বাসের পিছনে শুধু ধর্মীয় কারণই নয়, রয়েছে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যুক্তিও। কুলের মরসুম পড়ে শীতের শেষভাগ ও বসন্তের শুরুতে, ঠিক যে সময় সরস্বতী পুজো হয়। এই সময় কুল সাধারণত কাঁচা থাকে, যা খাওয়া শরীরের পক্ষে ভালো নয়। উপরন্তু, ঋতু পরিবর্তনের কারণে তখন সর্দি-কাশি ও জ্বরের প্রবণতাও বেশি থাকে। এমন পরিস্থিতিতে কাঁচা কুল খেলে ঠান্ডাজনিত সমস্যা বাড়তে পারে, এমনকি পেটের গোলমালও দেখা দিতে পারে।
এই সব দিক বিবেচনা করেই এক সময় সরস্বতী পুজোর আগে কুল না খাওয়ার রীতি গড়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে সেই স্বাস্থ্যবিধিই রূপ নেয় ধর্মীয় বিশ্বাসে, যা আজও অনেক পরিবারে মেনে চলা হয়।



