স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উপমুখ্যমন্ত্রী? অজিতের ‘ইচ্ছাপূরণ’ করতে সুনেত্রাকেই এগোতে পারে এনসিপি
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

স্বামীর আকস্মিক প্রয়াণের শোক সামলেও দলের দায়িত্ব সামলাতে পারেন স্ত্রী এমন নজির রাজনীতিতে নতুন নয়। সেই পথেই হাঁটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে মহারাষ্ট্রে। এনসিপি সূত্রের দাবি, প্রয়াত অজিত পওয়ারের শূন্যতা পূরণে তাঁর স্ত্রী সুনেত্রাকেই সামনে আনতে পারে দল। বর্তমানে রাজ্যসভার সাংসদ সুনেত্রা। অজিতের মৃত্যুর পর তাঁকেই মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী করার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে বলেই খবর।
বুধবার সকালে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় অজিতের। তাঁর প্রয়াণে এনসিপির ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হলেও, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দলীয় নেতৃত্ব উত্তরসূরি নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করে দেয়। সূত্রের খবর, এনসিপির ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট প্রফুল প্যাটেল-সহ দলের শীর্ষ নেতারা বুধবারই আলাদা করে কথা বলেন সুনেত্রার সঙ্গে। একই দিনে সংবাদমাধ্যমের সামনে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী ও এনসিপি নেতা নরহরি জারওয়াল জানান, রাজ্যের সাধারণ মানুষেরও ইচ্ছা সুনেত্রা যেন মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব নেন।
এই মুহূর্তে এনসিপির পরিকল্পনা, পওয়ার পরিবারের রাজনৈতিক ঘাঁটি বারামতি থেকেই সুনেত্রাকে প্রার্থী করা। এই কেন্দ্র থেকেই অজিত সাতবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। জীবনের শেষ পর্ব পর্যন্ত বারামতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই সুনেত্রাকে বিধায়ক করে তাঁকেই উপমুখ্যমন্ত্রী করার ছক কষছে দল। সেই সূত্রে আগামী দিনে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের সঙ্গেও সাক্ষাতের পরিকল্পনা রয়েছে প্রফুলদের। তবে শরদ পওয়ারের সঙ্গে ‘রিইউনিয়ন’ নিয়ে আপাতত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর তাড়া নেই এনসিপির।
রাজনৈতিক মহলের মতে, যে কোনও আঞ্চলিক দলের টিকে থাকার জন্য প্রতিষ্ঠাতা বা স্পষ্ট উত্তরাধিকারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে বহু দলের ভাঙন কিংবা অবলুপ্তি সেই বাস্তবতাই দেখিয়েছে। অজিতের মৃত্যুর পর থেকেই এনসিপির অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মৃত্যুর ঠিক আগের দিন পর্যন্ত তিনি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। কাকা শরদ পওয়ারের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে সদ্য স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলছিলেন। কিন্তু উত্তরসূরি নির্ধারণের সময় আর পাওয়া হয়নি। সেই কারণেই আপাতত অজিতের স্ত্রী সুনেত্রার হাত ধরেই টিকে থাকার লড়াইয়ে নামতে চলেছে এনসিপি।



