
নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও আনন্দপুরে পৌঁছলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিজেপির মিছিল নিয়ে কলকাতা হাই কোর্ট শর্তসাপেক্ষে সবুজ সংকেত দিয়েছে। আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করে মিছিলের অনুমতি দেন।
এদিকে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা বলবৎ থাকা সত্ত্বেও আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় উপস্থিত রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শঙ্কুদেব পণ্ডা, অগ্নিমিত্রা পল, সুব্রত ঠাকুর, নীলাদ্রিশেখর দানা-সহ বিজেপির একাধিক নেতা-কর্মী। সেখানে শুভেন্দু বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজধর্ম পালন করেননি। একবারও আসেননি ঘটনাস্থলে। মানুষের পাশে থাকতে এসেছি। আইন মেনে দূর থেকে দেখব।”
শুক্রবারের মিছিলের জন্য নির্দিষ্ট রুটও ঠিক করে দিয়েছে হাই কোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, গড়িয়া শীতলা মন্দির অথবা শহিদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশন থেকে বাঁ দিকের রাস্তা ধরে বাইপাস হয়ে নরেন্দ্রপুর থানার দিকে এগোনো যাবে। থানার ২০০ মিটার আগে পর্যন্ত মিছিল করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সর্বাধিক ২০০০ জন কর্মী-সমর্থক এই মিছিলে অংশ নিতে পারবেন। তবে থানায় স্মারকলিপি জমা দিতে পারবেন মাত্র ৫ জন। এই সমস্ত শর্ত মেনেই মিছিলের অনুমতি মিলেছে।
উল্লেখ্য, রবিবার রাত পর্যন্ত আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় ছিল একাধিক কারখানা ও গুদাম। দিনভর শ্রমিকদের যাতায়াত লেগেই থাকত। কিন্তু ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় মুহূর্তে বদলে গিয়েছে গোটা এলাকা। এখন সেখানে ছড়িয়ে রয়েছে ধ্বংসস্তূপ আর পোড়া গন্ধ। সেই ধ্বংসের মধ্যেই এখনও নিখোঁজ প্রিয়জনদের খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। সময় যত এগোচ্ছে, ততই উদ্বেগ বাড়ছে।
অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া ২১টি দেহাংশের পরিচয় নিশ্চিত করতে আজ থেকেই ডিএনএ ম্যাপিংয়ের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। নিহতদের সঠিক পরিচয় নির্ধারণে এই পরীক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রক্রিয়া শেষ হলেই দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে খবর।
এছাড়াও, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গে অবশেষে মুখ খুলেছে ওয়াও মোমো। ঘটনার প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর বুধবার সংস্থার তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় দেওয়া সেই পোস্টে পাশের একটি গুদামের উপর দায় চাপানো হয়েছে। পাশাপাশি, নিহত তিন কর্মীর পরিবারের পাশে থাকার কথাও জানিয়েছে মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থাটি।



