জাতীয়

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির আবহে অনিশ্চয়তা, বাজেটে চাবাহার বন্দরে বরাদ্দ শূন্য মোদি সরকারের

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির আবহে অনিশ্চয়তা, বাজেটে চাবাহার বন্দরে বরাদ্দ শূন্য মোদি সরকারের - West Bengal News 24

রবিবার সংসদে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। এই বাজেটে কেউ কেউ যেমন বাড়তি প্রাপ্তির মুখ দেখেছেন, তেমনই কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প পুরোপুরি উপেক্ষিত থেকেছে। সেই তালিকায় উঠে এসেছে ইরানে অবস্থিত ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দর। চলতি বাজেটে এই বন্দরের জন্য কোনও অর্থ বরাদ্দ না রাখায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

পূর্ববর্তী বছরগুলিতে চাবাহার বন্দরের উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে ভারত সরকার। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পে খরচ হয়েছিল ৪০০ কোটি টাকা। পরের অর্থবর্ষে প্রথমে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও পরে তা বাড়িয়ে ৪০০ কোটি করা হয়। কিন্তু ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য এক টাকাও বরাদ্দ করা হয়নি। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আমেরিকার চাপই এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে চাবাহার বন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও এই বন্দরের তাৎপর্য যথেষ্ট। সেই কারণেই ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে এই বন্দরের উন্নয়নে এতদিন সক্রিয় ছিল নয়াদিল্লি। তবে সাম্প্রতিক কালে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালালে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইরানের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা চাপায় আমেরিকা। যদিও চাবাহার প্রকল্পে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতকে ছয় মাসের ছাড় দেওয়া হয়েছিল, যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি মাসের ২৬ এপ্রিল। কূটনৈতিক সূত্রের ধারণা, এই সময়সীমা ও সম্ভাব্য আর্থিক ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখেই চাবাহারে বিনিয়োগ থেকে সরে এসেছে ভারত।

প্রসঙ্গত, ভারত ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই চাবাহার বন্দরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ‘ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর’ (INSTC)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও এই বন্দরকে গড়ে তোলার উদ্যোগ ছিল। পাকিস্তানকে পাশ কাটিয়ে আফগানিস্তান-সহ আশপাশের দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এই বন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম। সেই জায়গায় মার্কিন চাপের মুখে চাবাহার বন্দরে বরাদ্দ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়েই এখন উঠছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য