সিন্ধু চুক্তি ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আদালতে পাকিস্তানের অভিযোগ, পাত্তাই দিল না ভারত
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি ঘিরে ফের আন্তর্জাতিক মহলে দরবার করল পাকিস্তান। ভারতের তরফে চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে (Court of Arbitration) নালিশ জানায় ইসলামাবাদ। সেই আবেদনের ভিত্তিতে শুনানির দিন ঠিক করে দিল্লির কাছে জবাব তলব করা হলেও, সোমবার স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে ভারত এই আইনি প্রক্রিয়ার বৈধতা মানে না এবং শুনানিতে অংশ নেবে না।
নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ পিস প্যালেসে ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি সংক্রান্ত শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল। এ বিষয়ে গত সপ্তাহে ভারতকে নোটিস পাঠিয়ে চুক্তির কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়। তবে নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে, পাকিস্তানের এই অভিযোগে তারা কোনও গুরুত্ব দিচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি আধিকারিকের বক্তব্য, “অবৈধভাবে গঠিত সিওএ নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ছাড়াই সমান্তরাল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু আমরা সিওএর বৈধতা স্বীকার করি না, তাই আমরা এর কোনও জবাব দেব না।” তাঁর সংযোজন, বর্তমানে যেহেতু সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত, এই পরিস্থিতিতে ভারতের জবাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও নেই। “এটা (আন্তর্জাতিক আদালতে নালিশ) আসলে ভারতকে অস্বস্তিতে ফেলতে পাকিস্তানের একটি কৌশল।”
পহেলগাঁও কাণ্ডের পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত সরকার। ১৯৬০ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি আপাতত সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ভিয়েনা চুক্তির বিধিভঙ্গ বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ।
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাঙ্ক-এর মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধুর পূর্ব দিকের তিন উপনদী বিপাশা (বিয়াস), শতদ্রু (সাটলেজ) ও ইরাবতী (রাভি)-র জল ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। অন্যদিকে, সিন্ধু ও তার দুই উপনদী বিতস্তা (ঝিলম) এবং চন্দ্রভাগা (চেনাব)-র জলের উপর অধিকার পাবে পাকিস্তান। এই নদীগুলি ভারতের দিক থেকে পাকিস্তানের দিকে প্রবাহিত।
চুক্তির শর্তে বলা আছে, উভয় দেশ নিজেদের প্রয়োজনে জল ব্যবহার করতে পারলেও কোনও অবস্থাতেই জলপ্রবাহ বন্ধ করা যাবে না। চুক্তি স্থগিত থাকার ফলে পাকিস্তানের পঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশে সেচব্যবস্থা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষিতে, কারণ সিন্ধু ও তার উপনদীগুলির জলের উপরই পাকিস্তানের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষি নির্ভরশীল।



