৫৮ লক্ষ নাম বাদ, তবু ভোটে প্রভাব নেই! এসআইআর প্রসঙ্গে আত্মবিশ্বাসী মমতা, ‘আরও বেশি আসনে জিতব’
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর পর্বে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়লেও আসন্ন বিধানসভা ভোটে তার কোনও প্রভাব পড়বে না স্পষ্ট ভাষায় জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এবারের ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস আগের বারের তুলনায় আরও বেশি আসনে জয়ী হবে।
এসআইআর-এ ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ পরিবারগুলিকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। তবে ওই বৈঠকে অপমানের অভিযোগ তুলে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন এবং বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন। পরদিন মঙ্গলবার বঙ্গভবনে ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ পরিবারগুলিকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, এসআইআর-এর পর বাংলায় যে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে, তাতে তৃণমূলের রণকৌশল কী হবে। উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি এখন রণনীতি তো বলব না। আমি আমার দলের আলোচনা করব। আমাদের অনেক সাংসদ, বিধায়ক, ব্লক প্রেসিডেন্ট, বুথ প্রেসিডেন্ট রয়েছে। আমি নিজে একা কোনও সিদ্ধান্ত নেব না তো। আমাদের গণতান্ত্রিক দল। আমরা এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব।”
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা নানা প্রশ্নে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা জানান, বিচারব্যবস্থার উপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং আদালত থেকে ন্যায়বিচার পাবেন বলেই তিনি আশাবাদী। যদিও ন্যায়বিচার না পেলে বিকল্প পথ নিয়েও ভাবা হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে একটি বিষয়ে তিনি নিশ্চিত এবারের ভোটে বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসবে না। বরং গতবারের চেয়েও বেশি আসনে জিতে ফের তৃণমূলই সরকার গড়বে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বাংলার মানুষ বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁর কথায়, “বিজেপি বাংলায় আসবে না। মানুষ বিজেপিকে ঘৃণা করে।” এমনকি বিজেপির ভোটারেরাই শেষ পর্যন্ত তৃণমূলকে ভোট দেবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উদাহরণ দিয়ে মমতা বলেন, “ধরুন, যদি আপনার বেতন থেকে ২০ টাকা কেটে নেওয়া হয়, আপনি টিউশন করে সেই টাকা তুলে নিতে পারেন। বিজেপির লোকজনই আমাদের ভোট দিয়ে দেবে।”



