রাজ্য

এসআইআর নথি সংরক্ষণে কড়া নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের, ভুল প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

এসআইআর নথি সংরক্ষণে কড়া নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের, ভুল প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা - West Bengal News 24

আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত নথি সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিলেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ভোটার তালিকায় কোনও ধরনের ত্রুটি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল প্রমাণিত হলে জেলাশাসক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ক্ষেত্রে কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। কমিশনের এই অবস্থানের পর তৃণমূলের তরফে অভিযোগ ওঠে, কমিশন নাকি জমিদারি কায়দায় প্রশাসন চালাতে চাইছে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে কাজ করা আধিকারিকদের অযথা চাপ দেওয়া হচ্ছে।

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জেলাশাসক, ইআরও ও এইআরওদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “আপনারা মনে রাখবেন এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে তা কমিশনের তথ্য ভাণ্ডারে সংরক্ষিত থাকবে। এক বছর, দু’বছর নয়, এগুলি কমিশনের তথ্য ভাণ্ডারে বহু বছর সংরক্ষিত থাকবে। আগামী দিনে যদি কোনও ভোটার তালিকায় বিদেশি ধরা পড়ে তাহলে সেই অফিসারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে।

জেলাশাসক ও ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারদের আরও সতর্ক করে কমিশনের তরফে জানানো হয়, “ভাববেন না আপনারা পালিয়ে যেতে পারবেন। আজ না হোক আগামী দু’বছর বাদেও কমিশন পদক্ষেপ করতে পারবে।” জানা গিয়েছে, এই প্রথমবার এসআইআর নথি পাঁচ বছর ধরে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য ১১টি রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া চললেও সেখানে এখনও এমন নির্দেশ জারি হয়নি।

বৈঠকে আরও উঠে আসে, সংবাদপত্রের কাটিং, ফাঁকা পৃষ্ঠা কিংবা অস্পষ্ট ছবির মতো নথিও আপলোড করা হয়েছে। এই বিষয়ে আধিকারিকদের তিরস্কার করেন কমিশনার। পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ওই নথিগুলি সমস্ত ডিএম ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সামনে তুলে ধরা হয়। কীভাবে এই নথি আপলোড হল, কারা আপলোড করল এবং যাচাই প্রক্রিয়ায় কীভাবে অনুমোদন দেওয়া হল তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে কমিশন।

ডিএমদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদিত নথিই যেন ইআরও ও এইআরওরা গ্রহণ করেন, তা ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চিত করতে হবে। তালিকা অনুযায়ী সমস্ত নথি গ্রহণ করা হয়েছে কিনা, তা আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকেল ৫টার মধ্যে ডিইওদের নিজস্বভাবে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইটি টিমকে সময়সীমা পেরোনোর পর সিস্টেমে এ ধরনের নথি রয়ে গেছে কিনা তা পরীক্ষা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনও নথি পাওয়া গেলে তার দায় ব্যক্তিগতভাবে ডিএমদের উপর বর্তাবে বলেও কমিশন সতর্ক করেছে।

এছাড়াও পর্যবেক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ইআরও, এইআরও ও ডিইওদের কোনও অনিয়ম নজরে এলে তা কমিশনকে জানাতে হবে, যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। বৈঠকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়ালকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অগ্রহণযোগ্য বা অস্পষ্ট নথি যাচাইয়ের ঘটনা সামনে এলে সঙ্গে সঙ্গে কমিশনকে অবহিত করতে।

কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বৈঠকে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদহ, দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ডিএমদের কাজকর্ম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। পূর্ব বর্ধমানের ডিএমকে রাজনৈতিক মন্তব্য থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোচবিহারের ডিএমকে নথি আপলোডে দেরির জন্য ভর্ৎসনা করা হয় এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিএমও কমিশনের কড়া নজরে পড়েছেন।

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য