ট্যারিফ বিতর্কে কেন্দ্রকে নিশানা রাহুলের, বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মোদীকে কড়া আক্রমণ
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতিকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আরোপিত ট্যারিফকে ‘বেআইনি ও অসাংবিধানিক’ বলে ঘোষণা করায় বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে সেই সিদ্ধান্ত। এর জেরে ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার X হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাসঘাতকতা প্রকাশ্যে।’
এর আগে ভারতীয় পণ্যের উপর দুই দফায় মোট ৫০ শতাংশ ট্যারিফ চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ‘শর্তে’ তা কমে ১৮ শতাংশে নেমে আসে। তবে শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ওই ট্যারিফকে ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’ ঘোষণা করায় জরুরি ভিত্তিতে আরোপিত অতিরিক্ত ট্যারিফ এবং রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ—দুটিই আপাতত বাতিল হয়ে যায়।
তবে এই রায়ের পরও নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন ট্রাম্প। বিদেশি পণ্যের উপর ফের ১০ শতাংশ ট্যারিফ আরোপের ঘোষণা করা হয়েছে, যা আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে কার্যকর হবে। নির্দিষ্ট সময়সীমা হিসেবে ১৫০ দিন পর্যন্ত এই শুল্ক বহাল থাকবে এবং তার আওতায় ভারতীয় পণ্যও পড়বে। এই প্রসঙ্গেই প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন রাহুল গান্ধী। তিনি লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দর কষাকষি করতে পারবেন না। তিনি আবার আত্মসমর্পণ করবেন। তাঁর বিশ্বাসঘাতকতা সবার সামনে চলে এসেছে।’
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও একই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেন। বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি লিখেছেন, ‘মোদী যদি নিজের ভঙ্গুর ভাবমূর্তি ধরে রাখার জন্য মরিয়া না হয়ে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতেন, তা হলে দেশের কৃষকদের এত দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। দেশের সার্বভৌমত্বও সুরক্ষিত থাকত।’ পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি আসলে প্রধানমন্ত্রীর আত্মসমর্পণের ফল।
একই সুর শোনা গিয়েছে কংগ্রেস নেতা রণদীপ সুরজেওয়ালার বক্তব্যেও। কেন এত তাড়াহুড়ো করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি দেশের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকার কবে রাশিয়া ও ইরান থেকে তেল কেনার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে, সেই প্রশ্নও তোলেন। পাশাপাশি তিনি জানতে চান, ‘দেশের কৃষক ও শ্রমিকদের রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী কি আমেরিকা থেকে কৃষি ও খাদ্যপণ্য আমদানি বন্ধ করবে কবে?’



