
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে জোরদার প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আয়োজন করা হচ্ছে ‘পরিবর্তন যাত্রা’, যা কার্যত রথযাত্রার আদলে সংগঠিত হতে চলেছে। আগামী ১ মার্চ থেকে রাজ্যের একাধিক প্রান্ত থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে বলে আগেই ঘোষণা করেছিল গেরুয়া শিবির।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর হাত ধরেই এই যাত্রার সূচনা হবে। রাজ্যের ৯টি প্রান্ত থেকে যাত্রা শুরুর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দিল্লি থেকে আসছেন ৯ জন কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রী। এই ‘নবরত্ন’ সমাবেশের মূল লক্ষ্য একটাই বাংলায় সরকার গঠন। সোমবার দুপুরে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে চিঠি পাঠিয়েও বিজেপিকে সমর্থনের আবেদন জানানো হয়েছে। এর মধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে বাংলায় আগত বিজেপি নেতাদের বিস্তারিত সূচি।
বঙ্গ বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ১ মার্চ থেকেই শুরু হচ্ছে পরিবর্তন যাত্রা। ওইদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে উপস্থিত থাকবেন অমিত শাহ। একই দিনে রায়দিঘির পাশাপাশি কোচবিহার দক্ষিণ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, কুলটি এবং গড়বেতা থেকেও যাত্রা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পরদিন অর্থাৎ ২ মার্চ সন্দেশখালিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের নেতৃত্বে যাত্রার সূচনা হবে। এছাড়াও ইসলামপুর, আমতা ও হাসন থেকেও কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। রাজ্যের মোট ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়েই এই যাত্রা পরিচালিত হবে।
বিজেপির এই রথযাত্রায় অংশ নিতে চলেছেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন, প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করি, ধর্মেন্দ্র প্রধান, স্মৃতি ইরানি এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, ২০২৬ সালের ভোটের আগে এই পরিবর্তন যাত্রা আদৌ কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে। কারণ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও রাজ্যজুড়ে রথযাত্রার পরিকল্পনা নিয়েছিল বিজেপি, কিন্তু সাংগঠনিক দুর্বলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তৃণমূল স্তরে বহু কর্মীর নিষ্ক্রিয়তা তখন সামনে এসেছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।
এবার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নতুন কৌশল নিয়েছে বিজেপি। রাজ্যে দলের পর্যবেক্ষক হিসেবে দুই কেন্দ্রীয় নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যারা নিয়মিত রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে সাংগঠনিক জোর বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষ করে মণ্ডল স্তরের সংগঠনকে সক্রিয় করাই পরিবর্তন যাত্রার অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এই কর্মসূচি ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা অবশ্য নির্বাচনের ময়দানেই স্পষ্ট হবে।



