
কেরলের নাম পরিবর্তনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজ্যের নাম বদলের প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন মেলার পরেই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের রাজনৈতিক সমীকরণের জেরেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ‘রাম-বাম আঁতাঁত’-এর অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কেরলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব রাজ্য বিধানসভায় ২০২৪ সালেই গৃহীত হয়েছিল। তবে ভোটের আগে হঠাৎ কেন্দ্রের অনুমোদন মিলতেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এটিকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। মালয়ালি পরিচয় ও সাংস্কৃতিক আবেগের সঙ্গে জড়িত দীর্ঘদিনের দাবিকে বাস্তবায়ন করে বিজেপি রাজ্যে নিজেদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছে বলেই মত অনেকের।
এদিকে কেরল ও পশ্চিমবঙ্গে একই সময়ে নির্বাচন হওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণ আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেরলে প্রধান লড়াই সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফের মধ্যে। ২০২১ সালে ধারাবাহিকভাবে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরলেও দীর্ঘদিন সরকারে থাকার ফলে এবার প্রতিষ্ঠানবিরোধী প্রবণতার মুখে পড়েছে বামেরা। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ইউডিএফের সাফল্য এবং সাম্প্রতিক পুরভোটের ফলাফল সেই চাপ আরও বাড়িয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
কংগ্রেসের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতেই বিজেপির সঙ্গে পরোক্ষ সমঝোতার পথে হাঁটছে সিপিএম নেতৃত্ব। প্রকাশ্যে কোনও জোট না থাকলেও কৌশলগত বোঝাপড়ার ইঙ্গিত মিলছে বলেও দাবি তাঁদের। দীর্ঘদিন ধরেই পিনারাই বিজয়ন ও নরেন্দ্র মোদির সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা রয়েছে। কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য, জাতীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে সিপিএমের অন্য নেতারা যতটা সরব, বিজয়ন ততটা নন এবং কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশলই তিনি নিয়েছেন।
এছাড়া শিল্পপতি গৌতম আদানির সঙ্গে বিজয়নের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, কেরলে বিজেপির ধীরে ধীরে রাজনৈতিক বিস্তারের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে শাসক দলের নরম অবস্থানের কারণেই। বিরোধী ভোট কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে ভাগ হয়ে গেলে ক্ষমতায় টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়বে— এমন রাজনৈতিক হিসাব থেকেই বিজেপিকে কিছু ক্ষেত্রে পরোক্ষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে কংগ্রেসের দাবি বলেই উল্লেখ করা হচ্ছে।
কেরলের নাম পরিবর্তনের দাবি আচমকা বাস্তবায়িত হওয়ায় এই রাজনৈতিক জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক সুবিধা সিপিএম ও বিজেপি উভয় পক্ষই পেতে পারে। ফলে ভোটের আগে বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, “কেরলে বিজেপি এবং সিপিএম জোট গড়ে উঠছে বলে ওরা পেয়ে গেল।”



