এসআইআর বিতর্কে কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ অভিষেকের, রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

নির্বাচন কমিশনের পুরো বেঞ্চ বাংলায় পরিদর্শনে আসার পূর্বে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, অপরিকল্পিত এসআইআর (সিস্টেমেটিক ইনটিগ্রেশন রুটিন)-এর কারণে বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যতদিন পর্যন্ত সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবে, ততদিন তৃণমূল কংগ্রেস রাজপথে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে। মুখ্যমন্ত্রীর ধরনা মঞ্চ থেকে অভিষেক আরও বলেন যে, ইতিপূর্বে বাংলা থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাতিল করা হয়েছিল। ডিসেম্বর মাসে যখন প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, এবং ২৮শে ফেব্রুয়ারি তারিখে যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ থেকে ছয় লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। সব মিলিয়ে এই সংখ্যাটা এখন ৬৩-৬৪ লক্ষে পৌঁছেছে, এবং আরও প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি নাম বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। সব মিলিয়ে এই সংখ্যাটা প্রায় ১ কোটি ২৪ লক্ষ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এসআইআর ঘোষণা হওয়ার তিন মাস আগে থেকেই বিজেপি(ভারতীয় জনতা পার্টি)-র নেতারা দাবি করে আসছিলেন যে ১ কোটির বেশি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। অভিষেকের ভাষায়, এটা নিতান্তই কাকতালীয় হতে পারে না। তৃণমূল কংগ্রেসের বহু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন যে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরেও সেই বিষয়গুলি এখনও বিচারাধীন রয়েছে।
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে এবং বিভিন্ন ভাষায় নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি পূর্বে বলেছিলেন যে, নির্বাচন কমিশন যদি নিরপেক্ষভাবে কাজ না করে, তাহলে গণতন্ত্র বিপদের সম্মুখীন হবে। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হলে তৃণমূল কংগ্রেস তা মেনে নেবে না। তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট করে জানাতে বলেছিলেন যে, কেন এই প্রক্রিয়ায় এত বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই এসআইআর-এর প্রতিবাদ জানাতে অভিষেক দিল্লি পর্যন্ত গিয়েছিলেন এবং CEC (চিফ ইলেকশন কমিশনার) জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন।
প্রসঙ্গত, বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় যে, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে লোকসভা নির্বাচনের ঘোষণা হতে পারে। তার পূর্বে কমিশনের ফুল বেঞ্চ কলকাতায় আসছেন। আগামী ৮ই মার্চ, অর্থাৎ রবিবার রাতে কমিশনের প্রতিনিধিরা কলকাতায় পৌঁছাবেন। এবং ৯ই মার্চ (সোমবার) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জাতীয় এবং রাজ্যের স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে ওই প্রতিনিধি দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।



