
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে দেশে আবারও বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম। শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে তিনি মোদি সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন এবং গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী রবিবার মিছিলের ডাক দেন। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী মহিলাদের হাতা-খুন্তি নিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ৮৭৯ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৩৯ টাকা। শনিবার থেকেই এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক গ্যাসের সিলিন্ডারের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি সিলিন্ডারে ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা বাড়িয়ে তার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৯০ টাকা।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘনীভূত হওয়ার মধ্যেই দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার জরুরি ক্ষমতা বা এমার্জেন্সি (এসমা) জারি করেছে বলেও খবর। এর মধ্যেই রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গৃহস্থালির ১৪.২ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি যেমন সাধারণ মানুষের উপর চাপ বাড়াবে, তেমনই বাণিজ্যিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে রেস্তরাঁয় খাবারের দামেও।
হঠাৎ করে গ্যাসের দাম এতটা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির রান্নাঘরে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আরও স্পষ্টভাবে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জানা গিয়েছে, একটি সিলিন্ডার বুকিংয়ের পর দ্বিতীয়টি বুক করতে অন্তত ২১ দিনের ব্যবধান রাখতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন হঠাৎ করে গ্যাসের দাম এতটা বাড়ানো হল এবং সাধারণ মানুষ কীভাবে এর মোকাবিলা করবে—সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। “আগে থেকে কেন বিষয়টি ভাবা হল না? দেশ বেঁচে দিয়ে গলায় মালা পরে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন?” বলে কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ফের আন্দোলনের পথে নামার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাদা পোশাকে থাকবেন, আর মিছিলে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ও নেতৃত্বদের কালো পোশাক পরার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মহিলাদের হাতা-খুন্তি নিয়ে মিছিলে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি।



