
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর কি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে পারেন সূর্যকুমার যাদব? এমন জল্পনাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ক্রিকেট মহলে। তাঁর নেতৃত্বেই সম্প্রতি ভারত এশিয়া কাপ জয়ের সাফল্য পেয়েছে। এবার লক্ষ্য বিশ্বকাপ ট্রফি। কিন্তু এরই মধ্যে শোনা যাচ্ছে, আহমেদাবাদে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনাল ম্যাচের পরই নাকি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে পারেন ভারত অধিনায়ক। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই দাবি সামনে আসতেই চর্চা শুরু হয়েছে জোরকদমে।
বর্তমানে সূর্যকুমার যাদবের বয়স ৩৫ বছর। সেই কারণেই অনেকের ধারণা, চলতি টুর্নামেন্টই হয়তো তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ারের শেষ অধ্যায় হতে পারে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, বিশ্বকাপ শেষ হলেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
এখন পর্যন্ত দেশের হয়ে তিনি ১১০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। পাশাপাশি রয়েছে ৩৭টি একদিনের ম্যাচ এবং একটি টেস্ট। পরিসংখ্যান বলছে, মূলত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেই তিনি সবচেয়ে বেশি সফল। অন্য ফরম্যাটে তাঁর উপস্থিতি খুব একটা নিয়মিত নয়। তাই ভবিষ্যতে সীমিত ওভারের অন্য ফরম্যাটে তাঁকে খুব বেশি দেখা যাবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেই অবসরের ভাবনা ঘিরে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সূর্যকুমার যাদব বা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
যদি সত্যিই বিশ্বকাপের পর তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান, তবে সাদা বলের ক্রিকেটে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য সুযোগ তৈরি হতে পারে। ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে ইতিমধ্যেই কয়েকজন ক্রিকেটারের নাম উঠে আসছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম শ্রেয়স আইয়ার।
এছাড়াও ক্রিকেট মহলের একাংশের মতে, কোনও ক্রিকেটারের প্রথম একাদশে জায়গা অনিশ্চিত হলে শুধুমাত্র অধিনায়কত্বের কারণে তাঁকে জাতীয় দলে ধরে রাখার ব্যাপারে বিসিসিআই আগ্রহী নাও হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতেও সূর্যকুমারের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সূর্যকুমার যাদবকে তাঁর চেনা ছন্দে দেখা যাচ্ছে না বলেও মত অনেকের। চলতি বিশ্বকাপে ৮টি ম্যাচে তিনি করেছেন ২৪২ রান, গড় ৩৪.৩৭। যদিও গত বছরের অক্টোবরে তিনি নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বলেছিলেন, “২০২৮ সালের অলিম্পিক এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে চাই আমি। তাই খুব সচেতনভাবেই এগোতে চাইছি। সবার আগে আমাকে ফিট থাকতে হবে। ৩৭-৩৮ বছর বয়সে এটা মোটেও সহজ কাজ নয়।”
তবে আপাতত সব জল্পনার বাইরে রেখে সূর্যকুমারের প্রধান লক্ষ্য একটাই—নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়া।



