রাজনীতিরাজ্য

বিয়ে বিতর্ক পেরিয়ে ফিরলেন হিরণ, শেষমুহূর্তে টিকিটে চমক বিজেপির

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Hiran Chatterjee : বিয়ে বিতর্ক পেরিয়ে ফিরলেন হিরণ, শেষমুহূর্তে টিকিটে চমক বিজেপির - West Bengal News 24
হিরণ চট্টোপাধ্যায়

প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থাতেই চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয়বার বিয়ে করে প্রবল বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন খড়গপুরের বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। সেই ঘটনার জেরে প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও সন্তানের দায়ের করা অভিযোগে আইনি জটিলতারও সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে। ফলে, এই বিতর্কের পর আসন্ন ছাব্বিশের নির্বাচনে তিনি আদৌ টিকিট পাবেন কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছিল।

গত সোমবার বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হতেই দেখা যায়, নিজের জেতা খড়গপুর কেন্দ্র থেকে বাদ পড়েছেন হিরণ। এরপরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিতর্কের কারণেই কি তাঁর টিকিট কাটা গেল? এই জল্পনার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত চমক দেখালেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিজেপির দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা সামনে আসতেই স্পষ্ট হয়, বিতর্ক সত্ত্বেও হিরণের উপর আস্থা রেখেছে দল। হাওড়ার শ্যামপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে তাঁকে। ওই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী নদেবাসী জানার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন :: দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল বিজেপি, টিকিট পেলেন অর্জুন-দিব্যেন্দু-রূপা-কৌস্তুভ

বিয়ে বিতর্কের পর টিকিট না পাওয়ার জল্পনা তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে সুযোগ পেয়ে দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে হিরণ বলেন, শুভেচ্ছা আমি সেদিন নেব, যেদিন পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদির সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, যেদিন বাংলায় ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার গড়বে।

খড়্গপুরের মতো পরিচিত কেন্দ্র ছেড়ে শ্যামপুরে লড়াই করা তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে হিরণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমি তো পশ্চিমবঙ্গ থেকেই ভোট লড়ছি। অসম কিংবা বিহার থেকে লড়ছি না। পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও কেন্দ্র থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির হাত ধরে পরিবর্তনের দিন আসুক, সেটাই চাই।”

উল্লেখ্য, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে বিজেপি একাধিক পরিচিত মুখকে প্রার্থী করেছে। অগ্নিমিত্রা পাল, রুদ্রনীল ঘোষদের পাশাপাশি রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, হিরণ চট্টোপাধ্যায় ও শর্বরী মুখোপাধ্যায়দের মতো তারকারাও জায়গা পেয়েছেন তালিকায়।

প্রথম দফার তালিকায় নাম না থাকায় আগেই হিরণ জানিয়েছিলেন, “এক বছর আগেই দল জানিয়ে দিয়েছিল যে খড়গপুরে টিকিট দেবে না। তবে কোথায় প্রার্থী করবে? সেকথা বলেনি তখনও। চব্বিশের লোকসভা ভোটের পরই জানতাম আমাকে এখান থেকে ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু আমি তো খড়্গপুরের মাটি ছেড়ে যাইনি, কাজ করে গিয়েছি। খড়্গপুরের ইতিহাসে ১৯৫১ সালের পর পর এখানে যদি কোনও উন্নয়ন হয়ে থাকে, তাহলে সেটা গত ৫ বছরে আমার সময়ে হয়েছে। সাড়ে ৪ হাজার কোটির হাইওয়ে। খড়্গপুর থেকে শিলিগুড়ি, বেনারস ২৯০৫ কোটি ফোর্থ লাইন। এছাড়া খড়্গপুরে স্টেশনে ১১৩ কোটি টাকা, জল নিয়ে এসেছি ১৩৫ কোটি দিয়ে। মাটির তলা দিয়ে ইলেকট্রনিকের লাইন নিয়ে গিয়েছি ২৫০ কোটি টাকায়। আগামীর প্ল্যান বলতে, শ্যামপুর এখনও পিছিয়ে। একটা হাসপাতাল, কলেজ, ব্রিজ নেই। সেকাজগুলো করব আগামী দিনে। আমার মা বা মামাবাড়ির সদস্যরা যে সুবিধেগুলো পাননি, শ্যামপুরের মানুষেরা যেভাবে বঞ্চিত, অবহেলিত সেই জায়গাটা তৈরি করে দেব।”

টিকিট পাওয়ার পর আরও আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য