যুদ্ধের প্রভাব রান্নাঘরে! PNG না নিলে ৩ মাসে বন্ধ LPG! জ্বালানি সংকটে কড়া সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

যে সব এলাকায় নলবাহিত গ্যাসের সুবিধা ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে, সেখানে সেই পরিষেবা গ্রহণ না করলে আগামী তিন মাসের মধ্যে এলপিজি সংযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনই কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত এবং তার জেরে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গ্যাস আমদানিতে বড় প্রভাব পড়েছে, যার ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে পাইপলাইন গ্যাস বা পিএনজি ব্যবহারে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।
এতদিন পর্যন্ত এলপিজি ব্যবহারকারীদের জন্য পিএনজি সংযোগ নেওয়া ছিল সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী সিদ্ধান্ত। কেউ চাইলে নিতে পারতেন, না চাইলে আগের মতোই সিলিন্ডার ব্যবহার করতে পারতেন। কিন্তু নতুন নির্দেশিকায় সেই অবস্থান বদলেছে। এখন যেসব এলাকায় পিএনজি পরিষেবা উপলব্ধ রয়েছে, সেখানে গ্রাহকদের সেই পরিষেবা গ্রহণ করতেই হবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যদি কেউ এই সংযোগ না নেন, তাহলে তাঁর এলপিজি সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে। ফলে বিষয়টি আর ঐচ্ছিক থাকছে না, বরং ধীরে ধীরে বাধ্যতামূলক ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে।
আরও পড়ুন :: যুদ্ধের জল্পনায় গ্যাস নিয়ে ধোঁয়াশা, বুকিং নিয়মে কোনও বদল নয়, স্বস্তির বার্তা কেন্দ্রের
এই সিদ্ধান্তের পিছনে মূল কারণ হল দেশের আমদানিনির্ভরতা। বর্তমানে দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অস্থিরতার কারণে সেই আমদানিতে বড়সড় বাধা তৈরি হয়েছে। এর বিপরীতে পিএনজি দেশের ভেতরেই উৎপাদিত হয় এবং এর উৎসও একাধিক। ফলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পিএনজি ব্যবহারের উপর গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে। কেন্দ্রের লক্ষ্য, ধাপে ধাপে দেশের আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে এই পরিষেবার আওতায় আনা।
তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এখনও দেশের প্রতিটি অঞ্চলে পিএনজি পরিষেবা পৌঁছে যায়নি। অনেক জায়গায় অবকাঠামোগত সমস্যা এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এই পরিষেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। তা সত্ত্বেও ধাপে ধাপে নেটওয়ার্ক বিস্তারের কাজ চলছে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর আগেও পিএনজি সংযোগ সংক্রান্ত একাধিক নির্দেশিকা জারি করেছিল কেন্দ্র। সেই নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন মঞ্জুর করতে হবে। গৃহস্থালির ক্ষেত্রে তিন দিনের মধ্যে অনুমোদন দিতে হবে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিষেবা চালু করার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি কোনও আবেদন অযথা বাতিল করা যাবে না বলেও জানানো হয়েছিল। নতুন নির্দেশিকার ফলে সেই প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত এবং বাধ্যতামূলক করার দিকেই এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।



