রাহুলকে জলে নামতে বারণ করা হয়েছিল! তালসারিতে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যুর নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে নক্ষত্র পতন। রবিবার দুপুরে তালসারি সমুদ্র সৈকতে শুটিং চলাকালীন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। শুটিংয়ের বিরতিতে সমুদ্রে স্নান করতে নেমেই বিপত্তি ঘটে। তবে অভিনেতার এই আকস্মিক মৃত্যু কি নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো কারণ? ধারাবাহিকের ম্যানেজারের বয়ানে উঠে এল বিস্ফোরক তথ্য।
শুটিং শেষে চরম বিপর্যয়: ঠিক কী ঘটেছিল তালসারিতে?
দীর্ঘদিন ধরেই ওড়িশার তালসারি বিচে একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও ইউনিট সূত্রে খবর, রবিবারের শুটিং শিডিউল শেষ হওয়ার পর খোশমেজাজেই ছিলেন রাহুল। সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার ভিডিও-ও প্রকাশ্যে এসেছে। কিন্তু প্যাক-আপের পরেই ঘটে যায় সেই ভয়াবহ ঘটনা। উত্তাল সমুদ্রে স্নান করতে নামেন অভিনেতা, আর মুহূর্তের মধ্যেই তলিয়ে যান গভীর জলে।
আরও পড়ুন :: আইপিএলের আগে বড় চমক! মুম্বইয়ে কোটি টাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনলেন গিল
“বারণ করা হয়েছিল রাহুলকে”, বিস্ফোরক দাবি ম্যানেজারের
এই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন ধারাবাহিকের ম্যানেজার শেখর চক্রবর্তী। তাঁর দাবি অনুযায়ী, রাহুলকে সমুদ্রে নামতে স্পষ্ট নিষেধ করা হয়েছিল। শেখর বাবু বলেন: “আমাদের প্যাক-আপ হয়ে গিয়েছিল। আমি তখন অন্য শিল্পীদের হোটেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করছিলাম। ঠিক তখনই খবর আসে রাহুল জলে নেমে ভেসে যাচ্ছেন।”
তিনি আরও জানান, সেফটি বোটের সাহায্যে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ম্যানেজারের বয়ানে অসঙ্গতি? উদ্ধারকাজে দেরি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
যদিও প্রোডাকশন ম্যানেজার দাবি করছেন যে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানো হয়েছে, কিন্তু ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেরই অভিযোগ—রাহুল ডুবে যাওয়ার বেশ কিছুক্ষণ পর তাঁকে জল থেকে তোলা সম্ভব হয়েছিল। এই সময়ের ব্যবধানই কি কাল হলো? প্রশ্ন উঠছে শুটিং সেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও। বর্তমানে অভিনেতার দেহ দিঘা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
মর্মাহত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: শোকস্তব্ধ টলিপাড়া
রাহুলের অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজনৈতিক ও বিনোদন জগতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করে লিখেছেন:
“তরুণ ও জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি আর আমাদের মধ্যে নেই—এই খবর পেয়ে আমি হতচকিত ও মর্মাহত।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, রাহুল তাঁর অত্যন্ত পছন্দের একজন অভিনেতা ও মানুষ ছিলেন।
শেষ ভিডিওতে হাসি-ঠাট্টা, কয়েক ঘণ্টা পরেই নীরবতা
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও সহকর্মীদের সঙ্গে খোশমেজাজে গল্প করছিলেন রাহুল। সেই হাসিমুখের মানুষটি যে এভাবে চিরতরে চলে যাবেন, তা মানতে পারছেন না তাঁর অগণিত অনুরাগী ও সহকর্মীরা।



