ভোটার তালিকায় নাম বাদ? দুশ্চিন্তা নয়, বাড়ি বসেই মিলবে সমাধান, ট্রাইবুনালে বড় আপডেট 🗳️📢
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

রাজ্যে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্কের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গঠন করা হয়েছে ট্রাইবুনাল, যার একমাত্র কেন্দ্রীয় দপ্তর স্থাপন করা হয়েছে কলকাতায়। এই দপ্তর থেকেই সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের সমস্ত অভিযোগ ও সমস্যার নিষ্পত্তি করবেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই একটি প্রশ্ন উঠছে, নাম বাদ গেলে কি প্রত্যেক ভোটারকে কলকাতায় এসে আবেদন জানাতে হবে, নাকি দূর থেকেই সমাধানের সুযোগ থাকবে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সশরীরে কলকাতায় আসার কোনও প্রয়োজন নেই। ভোটাররা ঘরে বসেই কমিশনের ওয়েবসাইট বা নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
যদি কোনও আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত নথির প্রয়োজন হয়, তাহলে সেই নথি নিজ নিজ জেলার ডিএম বা মহকুমা শাসকের দপ্তরে জমা দিলেই চলবে। স্থানীয় প্রশাসন সেই নথিপত্র সংগ্রহ করে ট্রাইবুনালের দপ্তরে পাঠিয়ে দেবে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য প্রক্রিয়াটি অনেকটাই সহজ করা হয়েছে এবং কলকাতায় এসে ঝক্কি পোহানোর প্রয়োজনীয়তা এড়ানো হয়েছে।
এই ট্রাইবুনাল দপ্তর বসবে কলকাতার জোকায় অবস্থিত দীনদয়াল উপাধ্যায় ইন্সটিটিউটে। এখান থেকেই ১৯ জন জুডিশিয়াল অফিসার রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ভোটারদের অভিযোগের নিষ্পত্তি করবেন। যদিও শুনানি ঠিক কবে থেকে শুরু হবে, তা এখনও নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। পুরো প্রক্রিয়া কীভাবে চলবে, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি বা এসওপি তৈরি করবে Calcutta High Court।
আরও পড়ুন :: ভবানীপুরে পার্টি অফিস ঘিরে বিতর্ক! শুভেন্দুর বিরুদ্ধে অভিযোগে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি সুব্রত বক্সীর
উল্লেখযোগ্যভাবে, Supreme Court of India-এর নির্দেশে এই ট্রাইবুনাল গঠন করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ট্রাইবুনালের কাজে নির্বাচন কমিশন কোনওভাবেই হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়াটি বিচারব্যবস্থার অধীনেই পরিচালিত হবে, যা এই ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার উপর জোর দিচ্ছে।
রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য মোট ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে এবং প্রতিটিতে দায়িত্বে রয়েছেন অভিজ্ঞ প্রাক্তন বিচারপতিরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম, বিচারপতি রঞ্জিতকুমার বাগ, বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুসহ আরও অনেকে। তাঁদের উপরই নির্ভর করছে বিপুল সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ অবস্থায় ছিল। সেই সমস্ত নাম যাচাই করে তথ্য নিষ্পত্তির কাজ চলছে। তবে ইতিমধ্যে প্রকাশিত একাধিক সাপ্লিমেন্টারি তালিকা নিয়েও এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। ঠিক কতজনের নাম সংযোজিত হয়েছে এবং কতজন বাদ পড়েছেন, সেই তথ্য স্পষ্ট নয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হল, ডিজিটাল মাধ্যমের মাধ্যমে নাম বাদ পড়া ভোটারদের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ আবেদন, নথি জমা এবং প্রক্রিয়ার বেশিরভাগটাই অনলাইনে সম্পন্ন করা যাবে। তবে যদি অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে সেই পরিস্থিতিতে কীভাবে সমাধান করা হবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ট্রাইবুনাল। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি এখন আদালতের তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে এগোচ্ছে এবং আগামী দিনে এটি কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
——————————————————–
রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা কোটি কোটি মানুষের জন্য এল স্বস্তির খবর। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্ট গঠন করেছে বিশেষ ভোটার ট্রাইব্যুনাল। এখন থেকে আর ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধন নিয়ে ঝক্কি পোহাতে হবে না।
কিভাবে কাজ করবে এই নতুন ব্যবস্থা? একনজরে দেখে নিন:
📍 হেডকোয়ার্টার: কলকাতার জোকায় অবস্থিত দীনদয়াল উপাধ্যায় ইনস্টিটিউটে এই ট্রাইব্যুনালের কেন্দ্রীয় দপ্তর স্থাপন করা হয়েছে।
📱 অনলাইন আবেদন: আপনাকে কষ্ট করে কলকাতা আসতে হবে না! নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট বা নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই আবেদন করা যাবে।
⚖️ বিচারবিভাগীয় নজরদারি: ১৯ জন অভিজ্ঞ বিচারপতির তত্ত্বাবধানে পুরো প্রক্রিয়াটি চলবে। এতে নির্বাচন কমিশন কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবে না, ফলে স্বচ্ছতা থাকবে বজায়।
📂 নথি জমা: অতিরিক্ত কোনো নথি লাগলে তা নিজের জেলার ডিএম (DM) বা মহকুমা শাসকের দপ্তরে জমা দিলেই চলবে। সেখান থেকেই নথি পৌঁছে যাবে ট্রাইব্যুনালে।
👨⚖️ অভিজ্ঞ প্যানেল: অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম সহ একঝাঁক অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ এই সমস্যার নিষ্পত্তি করবেন।



