
পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুললেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। মঙ্গলবার তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের ন’টি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও স্থায়ী শিক্ষিক বা পার্মানেন্ট ফ্যাকাল্টি নেই, যা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর দাবি, এর ফলে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ছাত্রছাত্রীরা যথাযথ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শিক্ষাঙ্গনের সামগ্রিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘‘রাজ্যের১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সাতটিতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১১ হাজার।’’ অর্থাৎ বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া থাকা সত্ত্বেও সেখানে পর্যাপ্ত স্থায়ী শিক্ষক নেই, যা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই ইঙ্গিত বহন করে বলে মনে করেন তিনি। এতে শিক্ষার গুণগত মান যেমন কমছে, তেমনই পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে।
এছাড়াও শমীক অভিযোগ করেন, একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস শুরু হওয়ার কয়েক মাস পরে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের গাফিলতির পরিচয় দেয়। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে শিক্ষা পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কোনও পরিকল্পনা নেই।
আরও পড়ুন :: লুডো বোর্ডে মোদী-শাহ সাপ, সিঁড়ি হলো মমতার প্রকল্প! বিধানসভার আগে তৃণমূলের দুর্ধর্ষ ‘গেম প্ল্যান’
বিশেষ করে বারাসত স্টেট ইউনিভার্সিটি নিয়ে তিনি একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, ‘‘বারাসত স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ২০১৯ সালে যে নিয়োগ হয়েছে, তার কোনোটাতেই নিয়ম মানা হয়নি। দু’জনকে নিয়োগ করা হয়েছে বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পর। পিএইচডি ডিগ্রি বিক্রি হচ্ছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে কোনও ভূমিকা নেই। ক্যাম্পাসের ভিতর অনেক গাছ, জলাভূমি স্থানীয় রাজনৈতিক গুন্ডাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বেসরকারিকরণ করা হচ্ছে।’’ এই অভিযোগগুলির মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন যে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে ক্যাম্পাস ব্যবস্থাপনায় একাধিক অনিয়ম ঘটছে, যা শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশকে নষ্ট করছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগ প্রসঙ্গেও সরব হন শমীক। তাঁর বক্তব্য, ‘‘চ্যালেঞ্জ করছি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব কেন্দ্রের প্রশ্নের উত্তর দিন । কারণ রাজ্য সরকার বারবার বলে, কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দিচ্ছে না। কিন্তু আসলে রাজ্যের দুর্নীতির জন্য কেন্দ্র হিসাব চেয়েছে। ১০০ দিনের টাকা কেন্দ্রীয় সরকার দিতে চায়। কিন্তু দিতে পারছে না রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে। রাজ্য সরকার দরিদ্র মানুষদের ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছে বিজেপির বিরুদ্ধে। শিক্ষকদের এই সরকার বঞ্চিত করছে, রাজ্য সরকারের কর্মীদের এই সরকার বঞ্চিত করছে।’’
সব মিলিয়ে, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক,এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একসঙ্গে আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারা নিয়ে সরব হলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, রাজ্যের ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনো স্থায়ী শিক্ষক নেই। এমনকি বারাসত স্টেট ইউনিভার্সিটিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমা লঙ্ঘন এবং পিএইচডি ডিগ্রি বিক্রির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে সরাসরি রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ নস্যাৎ করে শমীক পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন মুখ্যসচিবকে। তাঁর মতে, হিসাব না দেওয়ার কারণেই আটকে রয়েছে ১০০ দিনের কাজের টাকা। শিক্ষা থেকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা— সব ক্ষেত্রেই রাজ্যের ‘গাফিলতি’ নিয়ে এখন উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি।
শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)
পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা দুর্নীতি (WB Education Scam)
বারাসত স্টেট ইউনিভার্সিটি (Barasat State University)
স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ (Permanent Faculty Recruitment)
বিজেপি বনাম তৃণমূল (BJP vs TMC)
পিএইচডি ডিগ্রি জালিয়াতি (PhD Degree Scam)
কেন্দ্রীয় বঞ্চনা (Central Funds Deprivation)
১০০ দিনের কাজ (MNREGA Fund)
পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা (Higher Education in West Bengal)
রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত (State-Center Conflict)



