
লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই বঙ্গ রাজনীতিতে প্রতিশ্রুতির বন্যা। এবার রাজ্যের অন্নদাতাদের জন্য বড়সড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নানুরের সভা থেকে বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে বড় ছাড়ের পাশাপাশি ক্ষেতমজুরদের জন্যও খুশির খবর শোনালেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
কৃষকদের আর দিতে হবে না বিদ্যুতের বিল?
বুধবার বীরভূমের নানুরে একটি জনসভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই তিনি রাজ্যের কৃষকদের জন্য একগুচ্ছ জনদরদী প্রকল্পের কথা মনে করিয়ে দেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে তাঁর ঘোষণা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কৃষক বন্ধুরা চাষের কাজের জন্য যে বিদ্যুতের খরচ বহন করতেন, তা আর করতে হবে না। এবার থেকে এই পরিষেবায় বিশেষ ছাড় বা মকুবের সুবিধা পাবেন তারা। মূলত সেচের কাজে কৃষকদের আর্থিক বোঝা লাঘব করতেই এই মাস্টারস্ট্রোক বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
আরও পড়ুন :: লুডো বোর্ডে মোদী-শাহ সাপ, সিঁড়ি হলো মমতার প্রকল্প! বিধানসভার আগে তৃণমূলের দুর্ধর্ষ ‘গেম প্ল্যান’
ক্ষেতমজুর ও ভাগচাষিদের জন্য বড় সুখবর
শুধু জমির মালিকরাই নন, এবার থেকে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন ক্ষেতমজুর এবং ভাগচাষিরাও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন স্পষ্ট করেন:
কৃষক বন্ধু প্রকল্প: যারা কৃষক বন্ধু প্রকল্পে বছরে ১০ হাজার টাকা পান, তাদের পাশাপাশি এবার ক্ষেতমজুররাও বছরে ৪,০০০ টাকা করে পাবেন।
ভাগচাষি সুবিধা: যারা নাম নথিভুক্ত করেছেন তারা ২,০০০ টাকার পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও ২,০০০ টাকা পাবেন।
ক্ষুদ্র কৃষক: যাদের মাত্র ১ কাঠা জমি আছে, তারাও সরকারি সহায়তা হিসেবে বছরে ৪,০০০ টাকা পাবেন।
শস্য বিমা ও ধান কেনায় জোর
রাজ্য সরকার যে কৃষকদের পাশে রয়েছে, তা বোঝাতে মুখ্যমন্ত্রী আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন:
খাদ্যসাথী ও রেশন: সরকার কৃষকদের থেকে প্রায় ৫৪ লক্ষ মেট্রিক টন ধান কেনে, যা সরাসরি রেশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
উন্নত চাল: আগে রেশনে ভাঙা চাল পাওয়া যেত, কিন্তু এখন চাষিদের উৎপাদিত উন্নত মানের চালই উপভোক্তারা পাচ্ছেন।
বিনামূল্যে বিমা: আলু ও ধান চাষিদের জন্য ‘শস্য বিমা’র (Crop Insurance) ব্যবস্থা রয়েছে। শস্য নষ্ট হলে চাষিরা ক্ষতিপূরণ পান, যার প্রিমিয়ামের একটি টাকাও চাষিদের দিতে হয় না—পুরো খরচ বহন করে রাজ্য সরকার।
ভোটের মুখে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ মমতার?
বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির কড়া সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলার কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। একদিকে যেমন ১০০ দিনের কাজের টাকার বকেয়া নিয়ে তিনি সরব হয়েছেন, তেমনই অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিলে ছাড় ও সরাসরি আর্থিক অনুদান বাড়িয়ে গ্রামীণ ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করলেন তিনি।



