হরমুজে পাতা মাইনেই বিপাকে ইরান, শান্তি বৈঠকের আগে মার্কিন দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের পর পালটা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা নেয় ইরান। সেই অনুযায়ী প্রণালী জুড়ে মাইন পেতে রাখে তেহরান। কিন্তু বর্তমানে সেই মাইনই ইরানের জন্য বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, হরমুজ খুলে দিতে চাইলেও তা কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে মার্কিন আধিকারিকরা জানিয়েছেন, হরমুজে পাতা নিজেদের মাইনই সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারছে না ইরান। এমনকি সেগুলি সরানোর প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতাও তাদের নেই বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে প্রণালী উন্মুক্ত করার ইচ্ছা থাকলেও বাস্তবে তা সম্ভব হচ্ছে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বাহিনীর হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার কৌশল নেয় তারা। এই দায়িত্ব নেয় ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড। ছোট নৌযান ব্যবহার করে জলে মাইন পোঁতার কাজ শুরু হয়। যদিও একটি নির্দিষ্ট পথ খোলা রাখা হয়েছিল, যার মাধ্যমে ইরানের অনুমতি নিয়ে কিছু পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করছে। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির পর শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে হরমুজ খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
আরও পড়ুন :: ‘সঞ্জয়ের ফাঁসি চাইনি’, আর জি কর মামলায় চাঞ্চল্যকর দাবি অভয়ার মায়ের
মার্কিন সূত্রের দাবি, সমুদ্রে মাইন পাতা এবং তা নিরাপদে সরানোর জন্য যে ধরনের প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন, তা ইরানের হাতে নেই। উপরন্তু, পরিকল্পনা ছাড়াই এলোমেলোভাবে মাইন বসানো এবং সেগুলির সঠিক নথিভুক্তি না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সমুদ্রের স্রোতে মাইনগুলির অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে কিনা, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এছাড়া, এই বিস্ফোরকগুলির ওপর নজরদারির কোনও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। ফলে পুরো হরমুজ প্রণালী নিরাপদে উন্মুক্ত করা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, শনিবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত ইরান-আমেরিকা শান্তি বৈঠক। এরই মধ্যে ইরানের প্রায় ৭০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে পৌঁছেছে। দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন অর্থনীতি, নিরাপত্তা, রাজনীতি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরাও। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধিদলও ইসলামাবাদে পৌঁছেছে বিশেষ বিমানে। সেই দলে রয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার। বৈঠকের আগে ইরানের পক্ষ থেকে আমেরিকার কাছে একাধিক শর্তও রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
নিজের পাতা ফাঁদেই বন্দি ইরান! হরমুজে মাইন নিয়ে চরম বিপাকে তেহরান, শান্তি বৈঠকের আগে চাঞ্চল্যকর দাবি আমেরিকার
আমেরিকা ও ইজরায়েলের পালটা হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পথ হরমুজ প্রণালীতে মাইন বিছিয়েছিল ইরান। কিন্তু এখন সেই মাইনই গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে তেহরানের। মার্কিন আধিকারিকদের দাবি, মাইন সরানোর মতো পর্যাপ্ত প্রযুক্তি বা ম্যাপ ইরানের কাছে নেই। ফলে শান্তি আলোচনার আগে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েও প্রণালীটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করতে পারছে না রেভলিউশনারি গার্ড। ইসলামাবাদের হাই-ভোল্টেজ শান্তি বৈঠকের ঠিক আগেই এই তথ্য সামনে আসায় বিশ্ব রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
এসইও কিওয়ার্ড (SEO Keywords):
ইরান-আমেরিকা শান্তি বৈঠক (Iran-US Peace Talks)
হরমুজ প্রণালী অবরোধ (Strait of Hormuz Blockade)
ইরানের মাইন আতঙ্ক (Iran Sea Mines)
আব্বাস আরাঘচি (Abbas Araghchi)
জেডি ভান্স ইরান সফর (JD Vance Pakistan Visit)
মধ্যপ্রাচ্য সংকট ২০২৬ (Middle East Crisis 2026)
রেভলিউশনারি গার্ড অপারেশন (Revolutionary Guard Operation)
ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনা (Islamabad Peace Summit)
আন্তর্জাতিক তেল পরিবহন (International Oil Trade Route)
ইজরায়েল-ইরান সংঘর্ষ (Israel-Iran Conflict)



