
আইপ্যাক (I-PAC) মামলা ঘিরে উত্তপ্ত সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) বনাম রাজ্য সরকারের সংঘাত এখন সর্বোচ্চ আদালতে। বুধবারের পর বৃহস্পতিবার বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের এজলাসে এই মামলার শুনানি চলাকালীন দুই পক্ষের আইনজীবীর সওয়ালে রীতিমতো অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়। একদিকে আদালতের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী, অন্যদিকে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন।
এদিন শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সওয়াল করার পরিবর্তে কেন্দ্র এমন কিছু যুক্তি সামনে আনছে যা কার্যত আদালতের অপব্যবহারের শামিল। মেনকা গুরুস্বামীর মতে, আদালতকে রাজনৈতিক প্রচারের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। পাশাপাশি কেন্দ্রের আইনজীবীদের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি কঠোর অবস্থান নেন।
আরও পড়ুন :: প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য! কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে নোটিস দিল নির্বাচন কমিশন
ইডির বিস্ফোরক দাবি: ২৭০০ কোটির দুর্নীতি ও ‘অনিরাপদ’ অফিসাররা
পাল্টা সওয়ালে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বেআইনি কয়লা পাচার মামলার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন, প্রায় ২৭০০ কোটি টাকার এই দুর্নীতি মামলায় তদন্ত করতে গিয়ে ইডি আধিকারিকদের মৌলিক অধিকার বিঘ্নিত হচ্ছে। তুষার মেহতা বিআর আম্বেডকরের নাম উল্লেখ করে বলেন, “ইডির অফিসাররাও এদেশের নাগরিক, কিন্তু যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।”
তুষার মেহতা এদিন তল্লাশি অভিযানের সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি:
তল্লাশি চলাকালীন শতাধিক পুলিশকর্মী নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
আইনজীবী দাবি করেন, তল্লাশির সময় পুলিশ বাধা দিয়েছে এবং অনধিকার প্রবেশের মামলা দায়ের করেছে।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলে দাবি করে তিনি এই পুরো ঘটনার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
এমনকি মুখ্যমন্ত্রী, ডিজিপি এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি আদালতের নজরদারিতে তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন।
শুনানির এক পর্যায়ে নাম না করে প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের প্রসঙ্গ টেনে আনেন তুষার মেহতা। তিনি বলেন, একজন প্রাক্তন পুলিশ কমিশনারকে রাজ্যসভার সাংসদ করা হয়েছে, যা নাগরিক হিসেবে অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং লজ্জাজনক। তাঁর এই মন্তব্য আদালতের অন্দরে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
(সতর্কবার্তা: এই প্রতিবেদনটি সাম্প্রতিক আদালতের শুনানির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। পরবর্তী আপডেটের জন্য আমাদের নিউজ পোর্টালের সাথে থাকুন।)



