রাজনীতিরাজ্য

‘সম্মান না পেলে আর তৃণমূলে নয়!’ ভরাডুবির জন্য আইপ্যাক-কে দুষে বিস্ফোরক অনুব্রত, মুখ খুললেন নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

‘সম্মান না পেলে আর তৃণমূলে নয়!’ ভরাডুবির জন্য আইপ্যাক-কে দুষে বিস্ফোরক অনুব্রত, মুখ খুললেন নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে - West Bengal News 24

রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার বড়সড় ভূমিকম্পের আভাস। গরু পাচার মামলায় দীর্ঘ কারাবাসের পর তিহাড় জেল থেকে বীরভূমে ফিরলেও, রাজনীতিতে সেভাবে ‘সক্রিয়’ দেখা যায়নি অনুব্রত মণ্ডলকে (Anubrata Mondal)। এবার দলের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ভরাডুবি এবং অন্তর্ঘাত নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বীরভূমের এই দাপুটে নেতা। সাফ জানিয়ে দিলেন, “সম্মান না পেলে আর তৃণমূলের সঙ্গে থাকবেন না।” একই সঙ্গে দলের ভোট কুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’ (I-PAC)-কে তীব্র আক্রমণ করে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি।

আইপ্যাক-এর বিরুদ্ধেই টাকা তোলার অভিযোগ! কেন ক্ষুব্ধ কেষ্ট?

রাজ্যে তৃণমূলের এই খারাপ ফলের জন্য সরাসরি প্রশান্ত কিশোরের তৈরি সংস্থা আইপ্যাক-কেই দায়ী করেছেন অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর অভিযোগ, জেলা থেকে শুরু করে ব্লক স্তর পর্যন্ত দেদার টাকা তুলেছে এই সংস্থা।

অনুব্রতের কথায়: “১৯৯৮ সালে দল তৈরি হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন, আমরা সাতটি আসন জিতেছিলাম। তখন কোনও জ্ঞানীমুনি ছিল না। আমাদের মতো রাখাল-বাগালরাই দলকে টেনেছে। আইপ্যাককে তখন দরকার হয়নি। পরে তাদের প্রয়োজন পড়ল কেন? ওদের জন্যই দলের এই ভরাডুবি। দুনিয়ার লোকের কাছ থেকে ওরা টাকা তুলেছে। রাজনীতির কিছু জানে না। ওরা পয়সা কামাতেই এসেছিল।”

আরও পড়ুন :: সই-কাণ্ডে সাড়ে ৫ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ! ভবানী ভবন থেকে সোজা মমতার বাড়ি অভিষেক, রবিবারেও চরম নাটক?

কাজল শেখের উত্থান ও ভোটে অনুব্রতের নিষ্ক্রিয়তা

জেলে থাকার সময় থেকেই বীরভূম তৃণমূলে অনুব্রতের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ হিসেবে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠেন কাজল শেখ (Kajal Sheikh)। এবার নির্বাচনে দল তাঁকে হাসন কেন্দ্র থেকে টিকিট দেয় এবং তিনি জয়ীও হন। কিন্তু গোটা নির্বাচন পর্বে অনুব্রত মণ্ডলকে সেভাবে প্রচারের ময়দানে দেখা যায়নি।

নিজের এই নিষ্ক্রিয়তা প্রসঙ্গে কেষ্টর দাবি, দলই তাঁকে কোনও দায়িত্ব দেয়নি। কোর কমিটির বৈঠকে যখন তিনি নিজের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করেন, তখন তাঁকে স্পষ্ট বলা হয়— কোনো বিধায়ক না ডাকলে তাঁর যাওয়ার প্রয়োজন নেই। অনুব্রতের কথায়, “তা হলে আগ বাড়িয়ে আমার যাওয়ার দরকার কী? আমি তাই কিছু করিনি। বিজেপি খেটেছে, তাই জিতেছে।”

‘কংগ্রেসকে চটানোটা ভুল হয়েছে’

বিগত দিনে কংগ্রেসের হাত ধরেই রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই পুরনো জোটের কথা মনে করিয়ে দিয়ে অনুব্রত আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে আমরা ক্ষমতায় এলাম। কংগ্রেসকে চটানোটা আমাদের ভুল হয়েছে। কিন্তু কে কার কথা শোনে! আইপ্যাক এত টাকা তুলল। কিন্তু কেউ যদি জেগে ঘুমায়, দলের তো এই অবস্থা হবেই।”

ঋতব্রত-কাকলির ‘বিদ্রোহ’: ভুল দেখছেন না অনুব্রত!

ভোটের পর থেকেই তৃণমূলে ফাটল চওড়া হয়েছে। বিধানসভায় পরিষদীয় দল ভেঙে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৫৯ জন বিধায়ক স্পিকারকে চিঠি দিয়ে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে, লোকসভাতেও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে সাংসদেরা পৃথক ব্লক গঠন ও এনডিএ (NDA)-র শরিক হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

এই বিদ্রোহীদের পাশে দাঁড়িয়ে অনুব্রত বলেন:

  • “ওঁরা তো কোনও ভুল করছেন না।”

  • “বিজেপিতে তো যাচ্ছেন না, আলাদা ফ্রন্ট করছেন। সকলে যে দিকে যাবেন, সে দিকেই তো যেতে হবে।”

  • “মমতা একা হয়ে গিয়েছেন। দেখে খারাপ লাগছে। ওঁকে আমরা সকলেই ভালবাসতাম। কিন্তু শেষ দিকে উনি কার পাল্লায় পড়লেন জানি না।”

রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নাকি অন্য পথ? কী হবে অনুব্রতের ভবিষ্যৎ?

নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেননি অনুব্রত মণ্ডল। তবে অন্য কোনও দলে (যেমন বিজেপি) যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা আপাতত উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। কেষ্টর সাফ কথা, “সম্মান পেলে আমি দল করব। না পেলে চুপচাপ থাকব। অন্য দলে যাব না। বিজেপিতে যাওয়ার কথা এখনও ভাবিনি। জেল থেকে ফেরার পর থেকেই আমি রাজনীতি করা বন্ধ করে দিয়েছি। ওরা অন্য জনের হাতে ঘি খেয়েছে। আমার হাতে খায়নি।”

অনুব্রত মণ্ডলের এই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারের পর বীরভূম তথা গোটা রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।

আরও পড়ুন ::

Back to top button