অপরাধ

রাতে স্ত্রীকে অন্যের হাতে তুলে দেন তিনি

রাতে স্ত্রীকে অন্যের হাতে তুলে দেন তিনি - West Bengal News 24

নুসরাত তো মরে বেঁচে গেছে, আর আমি বেঁচেও মরে গেছি। আমার স্বামী প্রায় রাতে আমাকে অন্য পুরুষের হাতে তুলে দিত। এ সময় আপত্তিকর ছবি তুলে ও ভিডিও করে রাখতো। এ লজ্জার থেকে আমার মরে যাওয়াই ভালো। কিন্তু একমাত্র সন্তানের কথা চিন্তা করে বেঁচে আছি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন সাভার পৌর এলাকার বাড্ডা ভাটপাড়া মহল্লার বাসিন্দা মিঠুন সরকারের স্ত্রী।

সম্প্রতি এক কিশোরকে বলাৎকারের ঘটনায় মিঠুনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা হয়েছে। এ নিয়ে ১৪টি মামলা হলো তার বিরুদ্ধে।

বলাৎকারের ঘটনায় তাকে গ্রেফতারের দাবিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে। এ ঘটনায় মিঠুন সরকার গা ঢাকা দিলে নির্যাতনের শিকার স্ত্রী একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

পরে শুক্রবার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাভার মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন তিনি। এ ছাড়া গত রোববার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল-৯ এ একটি মামলা দায়ের করেন ওই নারী। আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।

মিঠুনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও সাধারণ ডায়েরি থেকে জানা যায়, মিঠুন উঠতি বয়সের যুবকদের নিয়ে প্রায় রাতে বাসায় ফিরতো এবং স্ত্রীকে তুলে দিত তাদের হাতে। এ ছাড়া ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে অন্য পুরুষকে দিয়েও স্ত্রীকে যৌন নির্যাতন করাতো। সেগুলো আবার ভিডিও করে ওই যুবকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতো।

মিঠুনের স্ত্রী জানান, সে সব সময় উঠতি বয়সের যুবকদের সঙ্গে সম্পর্ক করতে ভালোবাসে। মূলত সে একজন সমকামী ও কুরুচিসম্পন্ন মানুষ। তার এসব কাজে বাধা দিলেই আমাকে রড দিয়ে মারতো। কয়েক মাস আগে মিঠুন আমাকে ঘুমের ট্যাবলেট খেতে দেয়। কিন্তু কৌশলে ট্যাবলেট না খেয়ে আমি ঘুমের অভিনয় করে শুয়ে থাকি। পরে মিঠুনের সহযোগিতায় ওই রাতে এক যুবক ঘরে ঢুকে আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে একইভাবে মিঠুন এক যুবককে বেডরুমে ঢুকিয়ে দিলে ওই যুবকও আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ওই যুবকের সঙ্গে কিছু আপত্তিকর ছবি তোলে ও ভিডিও করে রাখে সে। প্রতিবাদ করলেই মিঠুন এসব ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিতো।

এসব ঘটনায় সাভার মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ জানান, মিঠুন সরকারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা অভিযোগে প্রায় ১৪টি মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলায় আদালতে চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে।

সূত্র-জাগো নিউজ

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য