বিচিত্রতা

অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন অফিসের বিদঘুটে কিছু নিয়ম-কানুন

অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন অফিসের বিদঘুটে কিছু নিয়ম-কানুন - West Bengal News 24

অফিসের বিদঘুটে নিয়ম-কানুন বলতেই মনে হয়, বিশাল বিশাল করপোরেট ভবনগুলোর মধ্যেই মনে হয় এসব নিয়মের ছড়াছড়ি। অদ্ভুত হলেও সত্য, সাধারণ মানের অফিসগুলোতেই এমন বিদঘুটে নিয়ম-কানুন দেখা যায়। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় বেশ কয়েকটি অফিসে এমন নিয়ম-কানুন মেনে চলা হয়।

মেলবোর্নের একটি প্রতিষ্ঠান টেক্সকো কনস্ট্রাকশনের দুই প্রধান টম বুল এবং ম্যাট বারকার নিয়ম জারি করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন বিএইচপি বিলিটনের চিফ এক্সিকিউটিভ মারিয়াস ক্লোপারসের ‘জিরো টলারেন্স পলিসি’র মাধ্যমে যেখানে সবার শেষে ‘নো টুনা’ নীতি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

ক্লোপারসের অফিসে কোনো কর্মী তার টেবিলে স্যুপ ও স্ন্যাকস খেতে পারেন না। বাড়ি থেকে টেবিল সাজানোর কোনো বোতলে রাখা গাছ-লতা আনা যাবে না। তারা পরিচ্ছন্ন ডেস্ক পলিসি মেনে চলে। সেই ডেস্কে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সঙ্গে নিজের একটি এ৫ আকারের ছবি রাখতে হবে।

প্রেমিক আসবে শুনে হাসপাতালে ভর্তি তরুণীর কাণ্ড!

বার্কারের মতে, এই নিয়মগুলো কঠিন হলেও কর্মীদের মাঝে সাধারণ জ্ঞান-বুদ্ধির সঞ্চার ঘটে। আসলে ডেস্কে খাবার না রাখার পেছনে গন্ধের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। তাই এখানে খুব কম গন্ধযুক্ত খাবার আনতে হবে। তবে সব কিছুর পরও টুনা মাছ আনা যাবে না। সব মিলিয়ে এসব নিয়ম বিদঘুটে হলেও ব্যবসার পরিবেশের সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণে এসব চালু রাখতে হয়।

আরেকটি পাবলিক রিলেশন ও মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানে কলা খাওয়া নিষেধ। মূলত এই ফলের গন্ধে বেজায় সমস্যা বসের। তাই নতুন কর্মীরা চাকরির প্রথম দিন নিষিদ্ধ কলার বিষয়ে লেকচার শোনেন। তাই কলার মতো উত্তম একটি ফলের প্রতি বৈরিতার ফলস্বরূপ অফিস রুল তৈরি হয়ে গেলো, এ বিষয়টি মেনে নিতে পারেন না অনেকেই।

অফিসের আসবাবপত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের চাকরি করতে আসলেন এক ভদ্রলোক যিনি গলফসহ স্থানীয় অন্যান্য ক্লাবে বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করতেন। তাকে বলা হলো, অফিসের কোনো কর্মী এবং মেহমানদের ‘মেট’ বলে সম্বোধন করা যাবে না। এই শব্দটি ভদ্রতাসূচক নয়, তাই স্যার বা ম্যাডাম শব্দটি ব্যবহার করতে হবে।

কাজে মনোযোগ বাড়াতে অফিসেই ঘুম!

এদিকে, সমাজ ও রাজনীতিতে ক্ষমতাশালী বসরাও কম যান না। একবার ফ্রেঞ্চ ইকোলজি অ্যান্ড এনার্জি মিনিস্টার সিগোলেন রয়াল তার অফিসে অদ্ভুত সব নিয়মের তালিকা ধরিয়ে দিতেন কর্মীদের। একবার তা প্রকাশ পেয়ে যায় এক কর্মীর মাধ্যমে। এসব নিয়মের মধ্যে ছিলো, তাকে দেখামাত্র কর্মীকে দাঁড়িয়ে পড়তে হবে। তিনি আসার আগে অ্যানাউন্স করা হবে আগমনবার্তা। আর তখন থেকেই দাঁড়িয়ে পড়তে হবে কর্মীদের। খাবারের সময় তার কক্ষে পাশের করিডর দিয়ে কেউ হেঁটে যেতে পারবেন না। এতে তার খাওয়ার সমস্যা হয় ইত্যাদি।

অনলাইন স্টোর আমাজন তার নানা কঠিন নিয়মের জন্য বিখ্যাত। ওয়ারহাউজ স্টাফদের জন্য দুটো কঠোর নিয়ম হলো, কর্মীরা পানীয় বলতে শুধুমাত্র বিশুদ্ধ খাবার পানি খেতে পারবেন যা একমাত্র পরিষ্কার বোতলে রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, আমাজন বিক্রি করে এমন কোনো পণ্য তারা ব্যবহার করতে পারবেন না যার মধ্য লিপস্টিক এবং হাতঘড়িও রয়েছে।

অবিশ্বাস্য! মেয়ে নাকি পুতুল !

আমেরিকার ডেট্রয়েট সিটির কর্মীরা কোনো সুগন্ধী ব্যবহার করতে পারবেন না। এর আগে এখানকারই সাবেক এক কর্মী সুগন্ধীর গন্ধ পেয়ে সিটির বিরুদ্ধে মামলা করে দিয়েছিলেন। সুগন্ধীতে অ্যালার্জি ছিলো তার।

অনলাইন বিজনেস বিউটিডিরেক্টরির সেলসে নিযুক্ত কর্মীদের সৌভাগ্যের জন্য প্রার্থনা করতে হয়। তাদের শক্তি ফিরিয়ে আনতে বিশেষ একটি সৌভাগ্যের পাথরে চুম্বনও করতে হয়। তাই কেউ যখন ভাগ্যের সন্ধান করেন, তখন এক পা এগিয়ে গিয়ে পাথরে চুম্বন করেন, জানালেন মহাব্যবস্থাপক জেনেট হেওয়ার্ড।

আরও পড়ুন ::

Back to top button