
ওয়েবডেস্ক : শেষ কবে বাংলার কোনও রাজ্যপালকে এই ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল! গত বিশ বছরে অন্তত দেখা যায়নি। কিন্তু রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় যেন প্রকৃত অর্থেই কেন্দ্রীয় সরকারের মুখপাত্র হয়ে উঠেছেন! শনিবার সকালে রাজ্যপাল যে টুইট করেছেন, তা রীতিমতো তাত্পর্যপূর্ণ।
টুইটের শুরুতেই তিনি লিখেছেন, ‘আপনার রাজ্যপাল, আপনার সেবক’। তার পর জানিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার মাধ্যমে ৪ লক্ষ ৭৮ হাজার মেট্রিক টন চাল বিনামূল্যে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গকে দিয়েছে’।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘বিনামূল্যে ৪ লক্ষ ৭৮ হাজার মেট্রিক টন চাল ছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকার বিনামূল্যে ১২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ডাল পাঠিয়েছে, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ১০ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ইতিমধ্যেই পেয়ে গেছে।’ গত সপ্তাহেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালকে পত্রাঘাতে বলেছেন, ভুলেও দ্বৈতশাসনের স্বপ্ন দেখবেন না।
আপনার রাজ্যপাল
আপনার সেবকপ্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার মাধ্যমে 4,78,000 মেট্রিক টন চাল বিনামূল্যে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গকে দিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় সরকার বিনামূল্যে রেশন দিচ্ছেন: জনপ্রতি মাসিক 5 কেজি চাল এবং পরিবারপ্রতি মাসিক 1 কেজি ডাল (1/2)
— Governor West Bengal Jagdeep Dhankhar (@jdhankhar1) May 9, 2020
প্রশাসনিক অধিকার রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীরই। রাজ্যপালের যে কোনও অধিকার বা ক্ষমতা নেই তা সরকারিয়া কমিশন, সংবিধান সভার বিতর্ক, সুপ্রিম কোর্টের বিবিধ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন।
কিন্তু রাজ্যপালও অনড়। তিনি সংবিধানের ধারা উল্লেখ করে পাল্টা জানিয়েছেন, বাংলার মানুষকে সেবা করার জন্য তিনি সংবিধান সম্মত ভাবে শপথ নিয়েছেন। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এই শঠে শাঠ্যংয়ে দুটো বিষয় পরিষ্কার। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার না থাকলে রাজ্য সরকারগুলি কখনওই কেন্দ্রের অনুদান বা সাহায্যের কথা বলতে চায় না।
রাজ্যপাল
আপনার সেবকবিনামূল্যে 4,78,000 মেট্রিক টন চাল ছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকার বিনামূল্যে 12800 মেট্রিক টন ডাল পাঠিয়েছেন, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ 10800 মেট্রিক টন ইতিমধ্যেই পেয়ে গেছে।
বাকি মুগ ডালের সরবরাহ আগামী সপ্তাহে শুরু হয়ে মে মাসের শেষের মধ্যে সম্পুর্ন হয়ে যাবে। (1/4)
— Governor West Bengal Jagdeep Dhankhar (@jdhankhar1) May 9, 2020
সেই সব রাজ্যে শাসক দল দেখাতে চায় যে তারাই জনগণের জন্য করছে। বাংলাতেও তাই। এখানে শাসক দলের বক্তব্য হল, কেন্দ্র রাজ্যকে যে টাকা দেয় তা রাজ্যের হকের টাকা। সেটা রাজ্যের মানুষের অধিকার। তা কোনও ভিক্ষা নয়।
আরও মজার হল, কেন্দ্রের থেকে বিভিন্ন প্রকল্প বাবদ রাজ্য টাকা না পেলে বারবার সে কথা বলে। সাংবাদিক বৈঠক করে সরকার তা জানায়। জনসভায় শাসক দল বলে। এমনকি প্রশাসনিক সভাতেও বলে। কিন্তু টাকা যখন আসে তখন সেটা কখনও সে ভাবে জানায় না। কোভিড সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্র যে চাল-ডাল পাঠাচ্ছে তা কখনওই সেভাবে জানায়নি সরকার।
বরং স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় কদিন আগে সাংবাদিক বৈঠকে বলেছেন, কেন্দ্র যে ডাল পাঠাবে বলেছিল তা এখনও পাওয়া যায়নি। এই অবস্থায় রাজ্যপালই বাংলার জনগণকে কেন্দ্রের সাহায্যের ব্যাপারে অবগত করানোর মহান দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন। পর্যবেক্ষকদের অনেকে মজা করে তাই এও বলছেন, রাজ্যপাল দিলীপ ঘোষের চাকরিটা রাখতে দেবেন না মনে হচ্ছে।
आपका राज्यपाल
आपका सेवकIn addition to 4,78,000 Metric Tonnes of FREE RICE Central Government has despatched 12800 MT of FREE DAAL and 10800 MT has been actually received by West Bengal.
Further supply of Moong Daal will commence next week completed by end of May.
— Governor West Bengal Jagdeep Dhankhar (@jdhankhar1) May 9, 2020
কারণ, দিলীপ ঘোষ, অধীর চৌধুরী, আবদুল মান্নান, সুজন চক্রবর্তীর মতো বিরোধী দলনেতাদের যে কথা বলার কথা, সেটা রাজ্যপালই বলে দিচ্ছেন। গণবন্টনের চাল ডাল থেকে কলকাতার পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক—সবেতেই উনি রয়েছেন।
সুত্র: THE WALL



