‘অর্ধনগ্ন করে ছবি তোলা হলো, অতঃপর…’

তখন তার বয়স মাত্র ১৫ বছর। নাম জেন (পূর্ণাঙ্গ নাম নয়)। একদিন ফেসবুকে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সুবাদে আস্তে আস্তে ওই ব্যক্তির ফাঁদে পা দেন তিনি। তাকে মডেলিংয়ে কাজ করার প্রস্তাব দেয় সে। এরপর তাকে ধর্ষণ করে। এখানেই থেমে থাকেনি অপরাধী। অন্যদের সঙ্গে রিহানাকে দৈহিক মিলন করতে বাধ্য করাতো।
বিনিময়ে খদ্দেরদের কাছ থেকে সেই অপরাধী অর্থ হাতিয়ে নিতো। এক পর্যায়ে জেনের হাতে যায় তার মোবাইল ফোন। ফোন করেন মাকে। তিনি পুলিশে খবর দিলে মেয়েকে বিপথে নামানো পাচারকারী এবং একজন ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে প্রচারিত সুপরিচিত ‘৬০ মিনিট’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানিয়েছেন। জেনের বয়স এখন ২৪ বছর। তিনি নিজের পুরো নাম জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
এমনকি তিনি মুখ পর্যন্ত দেখাতে রাজি হননি। বলেছেন, ওই পাচারকারী তাকে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠায়। জেন তা গ্রহণ করে। এরপর তার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তাকে নিজের আস্থায় নিয়ে নিতে সক্ষম হয় পাচারকারী। প্রস্তাব দেয় মডেলিং করার। এরপরই তাকে ধর্ষণ করে। একটি অনলাইনে তাকে খদ্দেরদের কাছে যৌনতার জন্য বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দেয়। খদ্দেরও মিলে যায়। তারা অর্থের বিনিময়ে জোর করে তাকে ধর্ষণ করতে থাকে। এর বিনিময়ে যে অর্থ আসতো তা চলে যায় পাচারকারীর হাতে।
ফেসবুক ব্যবহার করে এমন সব অনৈতিক কাজ করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে এ অভিযোগে ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন জেন। বর্তমানে ওই মামলাটি মুলতবি অবস্থায় আছে। ফেসবুকের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তাদের কোম্পানি যৌনতার ভিত্তিতে পাচার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু জেন বলেন, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে, আমি ওইসব কাজ করেছি। বলতে বলতে তিনি সাক্ষাৎকার থেকে চলে যেতে উদ্যত হন। কয়েক মুহূর্ত শেষে তিনি আবার বসে পড়েন এবং তার কাহিনী বলতে থাকেন।
আরো পড়ুন: স্ত্রীর পরকীয়ার সন্দেহ, অ্যালুমিনিয়ামের তার দিয়ে যৌনাঙ্গ সেলাই করে পালাল স্বামী
তার তথ্যমতে, ২০১২ সালে তিনি ছিলেন মাত্র ১৫ বছর বয়সী। মায়ের সঙ্গে বসবাস করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে। এ সময় প্রায় তার সমান বয়সী একজন পুরুষের কাছ থেকে একটি ফ্রেন্ড রিকুয়েন্ট পান তিনি। তার ভাষায়, আমি ফেসবুকে সব বন্ধুকে আমার করে ভেবেছিলাম। কিন্তু বাস্তবে তার অনলাইনের এই বন্ধুটি ছিল একজন যৌনতা ভিত্তিক পাচারকারী। সে একটি ভুয়া ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করছিল। সে জেন’কে ফেসবুকে ফুসলিয়ে ফেলে। তাকে তার মতো করে গড়ে তোলে। মডেল হিসেবে কাজ করলে সপ্তাহে দুই হাজার ডলার করে পাবে এমন প্রস্তাব দেয়। জেন বলেন, এ নিয়ে আমার মায়ের সঙ্গে একটি যুক্তিতর্কের মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছলাম। কারণ আমি কাজটা করতে চেয়েছিলাম। কারণ, এই বয়সে সপ্তাহে দুই হাজার ডলার আমার জন্য একটি উত্তম সুযোগ ছিল।
এরপরই জেন’কে তার বাড়ি থেকে তুলে নেয় ওই পাচারকারী। নিয়ে উঠায় একটি হোটেলে। তাকে বলা হয়, মডেলিংয়ের জন্য কিছু ছবি তুলতে হবে। এ সময় জেন দ্রুততার সঙ্গে বুঝতে পারেন, তিনি মারাত্মক কোনো ভুল করে ফেলেছেন। তার ভাষায়, যে ছবি তোলা হলো আমি জানি এসব ছবি মডেলিংয়ের নয়।
কারণ, আমাকে অর্ধনগ্ন করে ফেলা হয়েছিল। আমি শুধু অন্তর্বাস পরা ছিলাম। তাকে বললাম, আমি বাসায় যাবো। এখানে থাকতে চাই না আমি। আমি এটা বলার সঙ্গে সঙ্গে আমাকে আঘাত করা হলো। ওই পাচারকারী তখন আমাকে ধর্ষণ করে। তারপর একেবারে খোলামেলা ছবি তোলে এবং তা একটি অনলাইনে পোস্ট করে। ওই সময় ওই অনলাইনটি ছিল দেহপসারিণীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস। আমার ছবি দিয়ে সেখানে বিজ্ঞাপন দেয়ার পর ব্যাপক সাড়া এলো। মাত্র ১২ ঘন্টার ব্যবধানে বেশ কয়েকজন খদ্দের আমাকে ভোগ করে। আর অর্জিত অর্থ পাচারকারী নিজের কাছে রাখে।
এক পর্যায়ে জেন তার মোবাইল ফোন হাতের নাগালে পেয়ে যান। প্রথমেই তিনি তার মাকে ফোন করেন। তিনি আবার কালবিলম্ব না করে পুলিশে জানান। ঘটনাস্থল থেকে পাচারকারী ও একজন ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাদেরকে কয়েক দশকের জেল দেয়া হয়েছে। কিন্তু পাচারকারী বা ধর্ষক কারো নাম ঠিকানা উল্লেখ করা হয়নি



