বাগবাজারের রসগোল্লা নয় ৩৫৬ ধারা : সুখেন্দুশেখর রায়

বিতর্কটা মাঝে মাঝেই উঠছে। রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি বা ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ। যা নিয়ে বিভক্ত বঙ্গ বিজেপি শিবির। হিংসার উদাহরণ তুলে কেউ খোলাখুলি এই ধারা প্রয়োগের দাবি জানাচ্ছেন। আবার কেউ বলছেন, যে কারণে এই ধারা প্রয়োগ হয় রাজ্যে তার থেকেও খারাপ পরিস্থিতি রয়েছে। কিন্তু প্রয়োগের বিষয়টি যে খুব সহজ কাজ নয়, তা বোঝাতে সরব হয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়।
বুধবার এই নিয়ে একটি টুইট করেছেন তিনি। যেখানে এই দাবি নিয়ে যারা সরব হয়েছেন তাঁদেরকে রীতিমতো একহাত নিয়েছেন। ব্যঙ্গ করে বলেছেন বিষয়টি বাগবাজারের রসগোল্লা নয় যে চাইলেই পাওয়া যায়। টুইটে ঠিক কী লিখেছেন সুখেন্দুশেখর? এই দাবির স্বপক্ষে থাকা নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘৩৫৬ ধারা প্রয়োগের বায়নাক্কা বাগবাজারের রসগোল্লা নয়, যে চাইলেই পাওয়া যায়। গণতন্ত্রে মানুষের রায় এড়িয়ে যাওয়া যায় না। যারা এই সাংবিধানিক রীতিনীতি মানতে চায় না, তারা কর্তৃত্ববাদী তথা স্বৈরতান্ত্রিক ধ্যানধারণায় বিশ্বাসী। বাংলার জনগণ এমন অশুভ শক্তিকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করেছে।’
রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সরব বিজেপি নেতৃত্ব। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে দায়ী করেছেন রাজ্য সরকারকে। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে গিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা এবং নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী সাক্ষাত্ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও অন্যান্য বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে। পরে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেছেন, যে সমস্ত কারণে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ হয়, পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি তার থেকেও খারাপ।
আবার ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং রাজ্যে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের পক্ষেই সওয়াল করেছেন। কিন্তু তাঁদেরই সতীর্থ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও অধুনা বিজেপি নেতা রাজীব ব্যানার্জির গলায় কিন্তু শোনা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর। মঙ্গলবার ফেসবুকে নিজের দল বিজেপিকে নাম না করে ঠুকে রাজীব বলেন, মানুষের বিপুল জনসমর্থন নিয়ে আসা নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধীতা করতে গিয়ে কথায় কথায় দিল্লি আর ৩৫৬ ধারার জুজু দেখালে বাংলার মানুষ ভালোভাবে নেবে না।
৩৫৬ ধারা প্রয়োগের বায়নাক্কা বাগবাজারের রসগোল্লা নয় যে চাইলেই পাওয়া যায়। গণতন্ত্রে মানুষের রায় এড়িয়ে যাওয়া যায় না। যারা এই সাংবিধানিক রীতিনীতি মানতে চায় না তারা কর্তৃত্ববাদী তথা স্বৈরতান্ত্রিক ধ্যানধারণায় বিশ্বাসী। বাংলার জনগণ এমন অশুভ শক্তিকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করেছে।
— Sukhendu Sekhar Ray (@Sukhendusekhar) June 9, 2021
সুত্র : আজকাল



