
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে এখনও স্পষ্ট কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি তৃণমূল। তবে মনে করা হচ্ছে আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যেই এই বিষয়ে স্পষ্ট যা জানাবার তা জানিয়ে দিতে পারে তৃণমূল। আর তৃণমূল সূত্রে যেটুকু ইঙ্গিত মিলেছে তাতে করে রাজীবকে নেওয়া হলেও তাঁকে এখুনই কোনও বড় পদ দেওয়া হবে না। বরঞ্চ তৃণমূলের হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করেই তাঁকে পায়ের নীচে জমি খুঁজতে হবে।
আর সেই কারনেই প্রায় ১৬ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকা শান্তিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করতে পারে তৃণমূল। যদিও এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। কিন্তু জোড়াফুলের শিবির এখন রাজীব প্রসঙ্গে পুরোপুরি আড়াআড়ি ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে।
কেউ রাজীবকে নিয়ে নেওয়ার পক্ষে, আবার কেউ বা না নেওয়ার পক্ষে। তবে সকলেই একবাক্যে জানিয়ে দিয়েছেন এই বিষয়ে দলনেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সেই সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন তা তাঁরা সকলেই মেনে নেবেন। ঠিক এই রকম অবস্থায় রাজীবকে বেশ ভালই আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার আর এই আক্রমণ একপেশে হচ্ছে না। বরঞ্চ বিজেপির তরফেও এবার কল্যাণের দিকে ধেয়ে আসছে আক্রমণ।
সম্প্রতি রাজীব মুখ খুলেছিলেন বিজেপির গোপন কৌশল নিয়ে। সাফ জানিয়েছিলেন, একুশের ভোটযুদ্ধে হেরে গিয়ে নিজেদের পরাজয় না মেনে বিজেপি বহিরাগতদের দিয়ে বাংলায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর কৌশল নিয়েছিল। লকডাউন পড়ে যাওয়ায় তা আর হয়নি। সেই বিষয়েই কল্যাণ পাল্টা আক্রমণ শানেন রাজীবকে।
তিনি বলেন, ‘রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এখন খুব ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলেছে না। ১০ এপ্রিল নির্বাচন হল। ঠিক তার ৫ দিন আগে বাঁকড়াতে কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের এনে মিছিল করে রায়ট বাধানোর চেষ্টা করেছিল রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন পর্যবেক্ষকরা নির্দেশ দেওয়ায় পুলিশ সেই মিছিল আটকে দেয়।
পুলিশও তো তখন নির্বাচন কমিশনের আন্ডারে ছিল। আর পর্যবেক্ষকরা তো আমাদের লোক নন। তাহলে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় যদি সেদিন মিছিল করত, কী হত? বাঁকড়াতে তো দাঙ্গা লেগে যেত! আজকে খুব চোখ পাল্টি করে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলছ?’
কল্যাণবাবুর এই মন্তব্যের জেরে রাজীব নিজে কিছু না বললেও সরব হয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেছেন, ‘রাজীববাবু তো ওঁদের দলেই ছিলেন। এখন কল্যাণবাবু নানাভাবে গালিগালাজ করছেন। দুদিন আগে তো কুণালবাবুকেই চিত্কার করে বলতে শুনেছি, যে মুকুলবাবুর জেল হওয়া দরকার।
সেই কথা গিলে নিয়ে এখন মুকুলবাবু জিন্দাবাদ করতে হচ্ছে। সে কথা রাজীবের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। মনের কথা চেপে বলতে হয়। কল্যাণবাবু আপনি আইনজীবী, তবে আপনাকে একটা আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ। আপনাদের দলের তো ঠিক নেই। আপনাদের দল তো পরিবারতন্দ্র, একনায়কতন্ত্র। পরিবারের মতামত জেনে মুখ খুলবেন, না হলে বিপদ আসবে। কালকেই হয়তো রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ বলতে হবে আপনাকে।’
সুত্র : এই মুহুর্তে



