উত্তরবঙ্গের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে মুকুল রায়কে, বাংলা জুড়ে সংগঠন মেরামতে তৃণমূলের অস্ত্র এবার মুকুল

একুশের ভোট তৃণমূলকে ফের ফিরিয়েছে বাংলার মসনদে। ২১৩টি আসন নিয়ে নবান্নে প্রত্যাবর্তন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তার পরেও রাজ্যে সব জেলা থেকে সমান সাফল্য পায়নি তৃণমূল। এর মধ্যে যেমন উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং জেলা রয়েছে তেমনি রয়েছে দক্ষিনবঙ্গের নদিয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলাও।
আছে হুগলি জেলার আরামবাগ মহকুমা ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ মহকুমাও। এই সব এলাকায় তৃণমূলের খারাপ ফলাফলের জন্য দলের দুর্বল সংগঠনকেই চিহ্নিত করেছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। আর এই শূন্যস্থান পূরণ আর সাংগঠনিক ক্ষত নিরাময়ের লক্ষ্যে এবার মুকুল রায়কেই মাঠে নামাতে চলেছে তৃণমূল। মুকুল রায় রাজ্য রাজনীতিতে বরাবরই ভালো সাংগঠনিক নেতা হিসাবেই পরিচিত।
রাজ্যের প্রতিটি এলাকা তিনি নিজের হাতের তালুর মতোই চেনেন। বুথ স্তরে সংগঠন গড়ে কীভাবে দলকে শক্তিশালী করে তোলা যায় তা তিনি বিলক্ষণ জানেন। তৃণমূলে প্রথম থেকেই এই সংগঠনের কাজ দেখতেন মুকুল। পরে তিনি বিজেপিতে যাওয়ায় অনেকেই ভেবেছিলেন বিজেপি বোধহয় তাঁকে রাজ্যে সংগঠন বিস্তারের কাজেই লাগাবে। কিন্তু তা করা হয়নি।
বরঞ্চ প্রথম থেকেই একটা প্রয়াস ছিল বিজেপিতে মুকুল যেন শিকড় ছড়িয়ে বসতে না পারেন। রাজ্য বিজেপির অন্দরের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব যেন না বাড়ে। কার্যত মুকুলকে এই দূরে সরিয়ে রাখার জেরেই বিজেপির সংগঠন বাংলার বুকে দুর্বল হয়েই থেকে গিয়েছে। এখন মুকুল আবার তৃণমূলে ফিরতে তাঁকে সেই সাংগঠনিক কাজেই ফের ফিরিয়ে দিচ্ছে তৃণমূল। তার জেরে আগামী দিনে যদি রাজ্য বিজেপির অন্দরে আরও ধ্বস নামে সেক্ষেত্রে তা রোখার মতো বিজেপিতে আর কেউ রইলেন না।
চলতি বছরে পুজোর আগেই হতে পারে রাজ্যে পুরনির্বাচন। কলকাতা সহ রাজ্যের শতাধিক পুরসভায় সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। কিন্তু একুশের ভোটযুদ্ধের ফলাফল বলছে রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় তৃণমূল ভাল ফল করলেও বেশির ভাগ পুরসভা এলাকায় তৃণমূলের থেকে বিজেপির ফল ভালো হয়েছে। এটাই চিন্তায় রাখছে তৃণমূলকে।
কেননা ঘাসফুলের শীর্ষ নেতৃত্ব একদমই চান না ২০২৪ সালের আগে বাংলায় কোনও নির্বাচনে বিজেপি বাড়তি অক্সিজেন পেয়ে যাক। এই বছর পুরনির্বাচন রয়েছে। তারপর ২০২৩ সালেই রয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচন। তারপর ২৪ এর লোকসভা নির্বাচন। এই ৩ যুদ্ধে তৃণমূল নিরঙ্কুশ জয়ের লক্ষ্যে এগোচ্ছে। তাই যে সব জেলায় তৃণমূল ভালো ফল করতে পারেনি একুশের যুদ্ধে সেই সব জেলাতেই এখন মুকুল রায়কে দিয়ে সংগঠন বাড়াবার কৌশল নিচ্ছে তৃণমূল। আর এর সঙ্গে দলবদলের পালা, দলে টানার পালা তো চলবেই।
সূত্র : এই মুহুর্তে



