কাশ্মীরের বৈঠকে নির্যাতিত কাশ্মীরি পণ্ডিত ও শিখদের না রেখে ঠিক করেননি মোদী মন্তব্য সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর

কাশ্মীরের সর্বদল বৈঠকে কাশ্মীরি হিন্দুদের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো উচিত ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর, এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপির বরিষ্ঠ নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। বৃহস্পতিবার দুপুরে জম্মু-কাশ্মীরের আটটি রাজনৈতিক দলের ১৪ জন নেতানেত্রী উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের চারজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে মোদী বাদে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। এদিন কোনও নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি ছাড়াই জম্মু-কাশ্মীরের দলগুলিকে বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। একটি সূত্রে শোনা গিয়েছিল, জম্মু-কাশ্মীরে ডিলিমিটেশন নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে বিধানসভা নির্বাচন করতে গেলে আগে নির্বাচন কেন্দ্রগুলির সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করা দরকার।
কারণ জম্মু ও কাশ্মীর এখন দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। বৈঠকে জম্মু-কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সাতটি দল যৌথভাবে দাবি তুলেছে। এই সাত দলের জোটকে বলা হয় গুপকার অ্যালায়েন্স। এদিন বৈঠকে বসার আগে গুপকার জোটের দলগুলি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, জম্মু-কাশ্মীরকে ফের রাজ্য হিসাবে ঘোষণা করার দাবি থেকে তারা সরছে না।
সুব্রহ্মণ্যম স্বামী এই বৈঠক নিয়ে টুইট করে লেখেন, ‘কাশ্মীরি পণ্ডিতদের এই বৈঠকে না ডেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী ভুল করলেন। কাশ্মীরি হিন্দু এবং শিখদের মারা হয়েছিল, ধর্ষণ করা হয়েছিল, জোর করে ধর্মান্তর করা হয়েছিল এবং শেষমেশ কাশ্মীর থেকে জোর করে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল।’
২০১৮ সালে জম্মু-কাশ্মীরে মেহবুবা মুফতির সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেয় বিজেপি। তারপরেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হয়। এর আগে জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা ও ওমর আবদুল্লার সঙ্গে মোদীর দেখা হয় ২০১৯ সালের ১ অগাস্ট। তার চারদিন বাদেই দু’জনকে আটক করা হয়।
পরে সংসদে ঘোষণা করা হয়, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপ করা হচ্ছে। কিছুদিন আগেই জম্মু-কাশ্মীরে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চালুর ইঙ্গিত দিয়েছিল কেন্দ্র। গতকাল সেখানকার উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলি পর্যালোচনার জন্য জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহার সঙ্গে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
আলোচনায় নিরাপত্তা বাহিনীর আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। শাহ জানান, কাশ্মীরের কৃষকদের কেন্দ্রীয় যোজনার সুযোগ-সুবিধা তুলে দেওয়া হবে। তৈরি হবে নতুন শিল্পও। স্থানীয় স্তরে পঞ্চায়েতের উন্নতি এবং কোভিডের টিকাকরণের কর্মসূচিতেও গতি আনান আশ্বাস দেন তিনি।
সূত্র: দ্য ওয়াল



