বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক জেনে ফেলায় লোক দিয়ে স্বামীকে খুনের অভিযোগ স্ত্রী-র বিরুদ্ধে

স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় দুষ্কৃতিদের হাতে খুন হলেন এক ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সন্ধেয় মুর্শিদাবাদের সুতি থানার ফরিদপুর গ্রামে। খুনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার আগে থেকেই মৃত যুবক, সহিদুল শেখের (৪০) স্ত্রী সেলিনা বিবি পলাতক। খুনের ঘটনায় সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছু বছর আগে সুতির গাজিপুর দিয়ারাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা পেশায় শ্রমিক সাহিদুলের সঙ্গে সেলিনার বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। অভিযোগ গত কয়েক বছর ধরে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন সেলিনা। একাধিকবার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এই বিষয় নিয়ে অশান্তিও হয়েছে।
সাহিদুলের পরিবার তরফে দাবি, সাত দিন আগে সেলিনা ঝগড়া করে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। তারপর থেকে সাহিদুল বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে স্ত্রীর খোঁজ করলেও তার সন্ধান পায়নি। এরই মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যে নাগাদ সহিদুলের পরিবার খবর পায় তা প্রাণহীন দেহ একটি স্কুলের সিঁড়ির তলায় পড়ে রয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে সুতি থানার পুলিশ গিয়ে সহিদুলের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
মৃত যুবকের বোন রোজিনা বিবি বলেন , ‘গত দুবছর ধরে আমাদের গ্রামের দুই যুবক জালা ও উমরের সঙ্গে আমার বৌদির অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমার দাদা এই সম্পর্কের প্রতিবাদ করাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় প্রতিদিন অশান্তি হত। একাধিকবার আমার বৌদি ঝগড়া করে বাড়ি ছেড়ে চলেও গেছেন। আমার দাদা, সেলিনাকে খুব ভালবাসতো বলে তার অন্যায়কে ক্ষমা করে দিয়ে আবার তাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে।’
মৃত যুবকের মা মানেজা বিবি বলেন , ‘আমার ছেলে সেলিনার অবৈধ সম্পর্কের প্রতিবাদ করাতে বৌমা তার কিছু লোকজনকে দিয়ে আমার ছেলেকে দু-তিনবার মারধরও করেছে। গত সাতদিন আগে আবার আমার ছেলের সাথে অশান্তি করে সেলিনা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। বর্তমানে সে কোথায় আছে আমরা কেউ জানি না।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি গতকাল আমার ছেলে যখন বৌমার সন্ধানে বের হয় তখন তাকে সেলিনার পরিচিত কয়েকজন স্থানীয় একটি বাঁশ বাগান ও পাট খেতের মাঝে একটি নির্জন এলাকাতে বসে মদ খাওয়ায়। তারপর সেখানেই তারা আমার ছেলেকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
মৃত্যুর তদন্ত বিপথে চালিত করার জন্য আততায়ীরা দেহটি একটি স্কুলের সিঁড়ির তলায় রেখে পালায়। আমার ধারণা এই খুনের ঘটনার মূল চক্রী আমার বৌমা, সেলিনা। তাই এখনও সে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।’ তবে ইতিমধ্যে মৃতের বাবা মর্তুজা শেখ সুতি থানাতে সেলিনা এমং আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এসডিপিও (জঙ্গিপুর) বিদ্যুত্ তরফদার বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আমরা একজনকে গ্রেফতার করেছি। কী কারণে এই খুন তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
সূত্র : আজকাল



