
আগে জানা গিয়েছিল বিজেপিও ২১ জুলাই (21st july) কর্মসূচি পালন কবে। এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে শমীক ভট্টাচার্য এর বিস্তারিত জানালেন। তিনি বলেছেন, বিজেপি দিনটিকে শহিদ শ্রদ্ধাঞ্জলী দিবস (Shahid Shradhanjali Diwas) হিসেবে পালন করবে। এই উপলক্ষে রাজঘাটে দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে সাংসদরা ধরনা দেবেন। পাশাপাশি কলকাতা এবং জেলাতেও এই কর্মসূচি পালন করা হবে।

এদিন বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন গত ছয় মাসে বিজেপির ১৬২ জন কর্মী সমর্থককে হত্যা করা হয়েছে। ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যে রিপোর্ট দিয়েছে হিমশৈল্যের চূড়া মাত্র, দাবি করেছেন তিনি। তাঁর আরও দাবি বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি কর্মীদের তৃণমূলের পতাকা ধরতে বাধ্য করা হচ্ছে।
বিজেপি সাংসদদের এদিন বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ২১ জুলাই তাঁরা শহিদ শ্রদ্ধাঞ্জলী দিবস পালন করবেন। ভোট পরবর্তী হিংসায় মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই কর্মসূচি। তাঁদের স্লোগান হবে আক্রান্ত মানুষ, বিপন্ন গণতন্ত্র। দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে রাজ্যের বিজেপি সাংসদরা দিল্লির রাজঘাটে ধরনা দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার সকাল ১১ টা থেকে এই ধরনা শুরু হবে।
রাজ্যেও একইভাবে কর্মসূচি পালন করবে বিজেপি। কলকাতায় মূল অনুষ্ঠানটি হবে বিজেপির হেস্টিংস অফিসে। সেখানে দেড়টা থেকে ৪ টে পর্যন্ত হওয়া বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেবেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের তরফ থেকে যেভাবে স্মৃতি স্তম্ভ তৈরি করে বিক্ষোভ দেখানো হয়, খানিকটা সেই পথেই হতে চলেছে বিজেপির শহিদ শ্রদ্ধাঞ্জলী দিবস।
রাজ্যে ১.৩০ নাগাদ ভার্চুয়াল সভা শুরু হবে। জেলার সমস্ত কার্যকর্তা সোশ্যাল মিডিয়া (ফেসবুক, ট্যুইটার, ইনস্টাগ্রাম) তে এই সভা লাইভ দেখার জন্য বলা হয়েছে। সমস্ত বুথে কার্যকর্তাদের একসঙ্গে বসে দেখর জন্য বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে সমস্ত বুথ কার্যালয়ে, অঞ্চল কার্যালয়ে, মন্ডল কার্যালয়ে এটি একসঙ্গে কমপক্ষে ৫০ জন বসে দেখার ব্যবস্থা করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছ। এই একসঙ্গে বসে এই সভা দেখার ছবি, মণ্ডলের মাধ্যমে জেলা সোশ্যাল মিডিয়া প্রমুখের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যদিও আগে থেকেই বিজেপি ২১ জুলাই কোনও না কোনও কর্মসূচি পালন করে থাকে। গত বছরে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ তৃণমূলের শহিদ দিবস পালনকে কটাক্ষ করেছিলেন। বিজেপির তরফে দিনটিকে প্রহসন দিবস হিসেবে পালন করা হয়েছিল।
দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন ১৯৯৩-এ বাম সরকারের গুলিতে নিহত ১৩ জনের স্মৃতির উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শহিদ দিবস পালন শুরু করলেও বর্তমানে তার অধিকার হারিয়েছেন। কেননা তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যে গণতন্ত্র লুঠ হচ্ছে। বিরোধীদের অধিকার হরণেরও অভিযোগ করেছিলেন তিনি।
সূত্র : ওয়ান ইন্ডিয়া



