পূর্ব মেদিনীপুর

কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার ‘অপরাধ’, গৃহবধূকে ‘পুড়িয়ে’ খুন করল শ্বশুরবাড়ির লোকেরা

কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার ‘অপরাধ’, গৃহবধূকে ‘পুড়িয়ে’ খুন করল শ্বশুরবাড়ির লোকেরা - West Bengal News 24

কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় ‘ভুলের’ মাশুল দিতে হল জীবন দিয়ে। শ্বশুর বাড়ির অত্যাচারে বলি হতে হল এক গৃহবধূকে। মৃতার পরিবারের দাবি শ্বশুরবাড়ির লোকেরাই খুন করেছে তাকে। সেই মর্মে অভিযোগও জমা পড়ে স্থানীয় থানায়। ইতিমধ্যেই শ্বশুরবাড়ির দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের আদালতে তোলা হলে তাদের পুলিশই হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। সেই সঙ্গে তাদের জামিনও নাকচ করে দেওয়া হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় খেজুরির মতিলালচক গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম অষ্টমী মন্ডল। অষ্টমী খুনের অভিযোগে তার স্বামী বাবলু মণ্ডল ও শ্বশুর পরিতোষ মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দু’বছর আগে খেজুরি বোগা এলাকার বৃন্দাবন দলাইয়ের মেয়ে অষ্টমীর সঙ্গে বিয়ে হয় তালপাটি উপকূল থানার মতিলালচক গ্রামের বাবলু মণ্ডলের। বিয়ের একবছর পার হতেই ওই গৃহবধূ একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। প্রতিবেশীরা জানান, কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় গৃহবধূর ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার শুরু করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

মৃতার পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুর বাড়ির লোকজন প্রায়ই মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতেন। এই নিয়ে গ্রামে বেশ কয়েকবার সালিশি সভা বসে। এর মধ্যেই গত ১৮ জুলাই ওই গৃহবধূকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। তাকে স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে তাকে তমলুক জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এরপর গত ২০ জুলাই অষ্টমী মণ্ডলের মৃত্যু হয়।

মেয়ের মৃত্যুর পর বাবা বৃন্দাবন দলাই বুধবার সকালে অভিযোগ দায়ের করেন তালপাটি উপকূল থানায়। তিনি বলেন, “মেয়ে কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার পর থেকেই ওর ওপর অত্যাচার চলত। বারবার টাকার দাবি করত স্বামী ও শ্বশুর। টাকা দিতে না পারায় দিনের পর দিন মেয়েকে শারিরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো।

গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত তদন্ত চেয়ে ও দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেছেন তার বাবা। মৃতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ বৃহস্পতিবার মৃত গৃহবধূর স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের কারণে দুই অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সূত্র: এই মুহুর্তে

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য