
কখনও ঝিরঝিরে, কখনও মুষলধারে। বুধবার রাত থেকেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিতে ভিজছে শহর। যার জেরে আজ, বৃহস্পতিবার শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ—বহু জায়গাতেই জল জমেছে। কোথাও গোড়ালির উপর, আবার কোথাও হাঁটুসমান। যেকারণে জলে পা ডুবিয়েই গন্তব্যে যেতে হয়েছে লোকজনকে। উত্তরে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, মুক্তারামবাবু স্ট্রিট, মহাত্মা গান্ধী রোড, কলেজ স্ট্রিটের একাংশ ও আমহার্স্ট স্ট্রিটে ভালোই জল জমেছে।
এই জায়গাগুলিতে বরাবরই সামান্য বৃষ্টিতে জল জমে যায়। কিন্তু কোথাও তিন-চার ঘণ্টার বেশি জল দাঁড়ায়নি বলে পুরসভার নিকাশি বিভাগ সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এদিন দুপুরের মধ্যে বেহালা, সরশুনা থেকে শুরু করে গোলপার্ক, লেক গার্ডেন্স, কালীঘাটের কোনও কোনও অঞ্চলে জল জমে। সেইসঙ্গে গার্ডেনরিচ, রামকমল স্ট্রিট, রমানাথ পাল রোডে বিকেল পর্যন্ত জল জমে থাকতে দেখা গেছে।
জলমগ্ন হয়ে পড়ে এসএসকেএম হাসপাতাল চত্বর। যার জেরে দুর্ভোগে পড়েন রোগী ও তাঁদের পরিবারের লোকজন। আলিপুর পুলিশ আদালত জলমগ্ন হয়ে বড় দূর্ঘটনা ঘটে। জলের মধ্যে দিয়ে আসতে গিয়ে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হন দুজন আইনজীবী। জল নামতে দেরি হওয়ার কারণ হিসেবে পুরসভার নিকাশি বিভাগ জানিয়েছে, দিনভর বৃষ্টি হওয়ার জন্যই জল নামতে সময় লাগছে। তাদের দাবি, আগের থেকে দ্রুত জল নেমে যাচ্ছে শহরের।
পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম জানান, অনবরত বৃষ্টিতে জল জমেছে। বৃষ্টি খানিকটা কমলে জল নেমে যাবে। কলকাতা পুরসভার নিকাশির দায়িত্বে থাকা পুর-প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য তারক সিং বলেন, ‘এই জল সামান্যই। এটুকু জমবেই। শহরের নিকাশি ঠিক আছে। জল নামার জন্য ন্যুনতম সময় তো লাগবেই। সমস্ত পাম্পিং স্টেশন সক্রিয় থাকায় ও নিকাশি বিভাগ তত্পর থাকায় তেমন সমস্যা হচ্ছে না।’
এদিন ভোর থেকেই নিম্নচাপের বৃষ্টি শুরু হয়েছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায়। যেকারণে রাস্তাঘাটও অপেক্ষাকৃত শুনসান ছিল দিনভর। খুব দরকারি কাজ ছাড়া বাড়ির বাইরে পা রাখেননি অধিকাংশ মানুষ। তার ওপর করোনার জন্য প্রশাসনিক কড়াকড়ি তো আছেই। তাই এদিন শহরে নিত্য অফিসযাত্রী এবং প্রয়োজন ছাড়া খুব বেশি লোকজন চোখে পড়েনি। যানবাহনগুলিও ছিল অন্যদিনের তুলনায় ফাঁকা।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি সক্রিয় রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। সবথেকে বেশি বৃষ্টি হতে পারে দুই মেদিনীপুরে। খড়গপুরে সবথেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে এদিন। নিম্নচাপটি বাংলাদেশের খুলনার কাছাকাছি অবস্থান করছে। সেটি মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এর ওপর দিয়ে বিহার বা ঝাড়খন্ডের দিকে এগোচ্ছে।
তাই পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে হাওড়া, হুগলি, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমান জেলায়। পাশাপাশি, কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর নদিয়া, মুর্শিদাবাদেও আগামীকাল ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলোয় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মত্সজীবীদের সমুদ্রে যেতে বারণ করা হয়েছে।
সূত্র: দ্য ওয়াল



