
সকালেই ফোনে রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতির জন্য ডিভিসি সহ কেন্দ্রীয় জলাধার কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নালিশ ঠুকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বিকালে লিখিতভাবে অভিযোগপত্র পাঠালেন।
চার পাতার চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, ‘৫০ হাজার কিউসেক জল ছাড়ার কথা বলে ২ লক্ষ কিউসেক জল ছেড়েছে ডিভিসি। যার ফলে ভেসে গিয়েছে বিভিন্ন জেলা। কয়েক লক্ষ মানুষ চরম সমস্যায় পড়েছেন।’ চলতি বন্যায় কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে শিগগিরই বিস্তারিত হিসেব পাঠানো হচ্ছে বলেও প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন সকালে রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফোনালাপের সময়েই তিনি অভিযোগ করেন, ‘মাইথন, পাঞ্চেত ও তেণুঘাট জলাধার থেকে অতিরিক্ত জল ছাড়ার কারণেই রাজ্যের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
বার বার বলা সত্বেও পলি পরিস্কার করছে না ডিভিসি। যে কারণে জল ধরে রাখতে পারছে না।’ মমতার ক্ষোভ প্রশমনে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন, বন্যা পরিস্থিতির মোকাবিলায় রাজ্য সরকারকে সর্বতোভাবে সাহায্য করা হবে। এমনকি ডিভিসির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।
খানিক বাদেই অবশ্য মোদি-মমতার ফোনালাপ নিয়ে পিএমও থেকে করা টুইটে অবশ্য মেনে নেওয়া হয়েছে, জলাধার থেকে জল ছাড়ার কারণেই রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য সব রকমের সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিকালে প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, ‘২০১৫ সাল থেকে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্বেও জলাধারের পলি পরিস্কার করাচ্ছে না ডিভিসি কর্তৃপক্ষ। যার ফলে প্রতিবার বর্ষাকালে বাংলার বিস্তীর্ণ জেলা বানভাসি হয়ে পড়ছে।
এবার ডিভিসির অনিয়ন্ত্রিত জল ছাড়ার কারণে বিভিন্ন জেলায় বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একাধিক রাস্তাঘাট, চাষের জমি জলে ভেসে গিয়েছে। বেশ কিছু সেতুর ক্ষতি হয়েছে।’ বাংলায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার উপরে জোর দেওয়ার জন্যও প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্র : এই মুহুর্তে



