বেসরকারি হাসপাতালে কৌস্তভ বাগচীর হুমকি-ধমকি! চিকিৎসকদের অভিযোগ মুখ্যসচিবের কাছে
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

বারাকপুর ওয়ারলেস মোড়ের কাছে অবস্থিত এক বেসরকারি হাসপাতালে “বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী”র (Kaustav Bagchi) আচরণ ঘিরে চাঞ্চল্য। “ডক্টর ডে”-র রাতে হাসপাতালের চিকিৎসকদের উদ্দেশে কটূক্তি ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসক মহলের একাংশের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে “ডক্টর ফোরাম” সংগঠন মুখ্যসচিবের কাছে লিখিত অভিযোগও জানিয়েছে। পাশাপাশি, বুধবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ “মোহনপুর থানায়” কৌস্তভের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, বারাকপুরের বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মী “কার্তিক দাস” তাঁর অসুস্থ বাবা “দীনেশ দাস”কে প্রথমে বারাকপুর বিএন বসু মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি ঘটলে, মঙ্গলবার রাতে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় ওয়ারলেস মোড়ের ওই মাল্টি-স্পেশালিটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, “জরুরি চিকিৎসার পরিবর্তে রোগী ভর্তি করতে কত খরচ হবে তা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দর কষাকষি করছিল”। এমনকি, অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ তাঁদের। রোগীর মৃত্যু নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় হাসপাতালে।
ঘটনার জেরে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পৌঁছন কৌস্তভ বাগচী। অভিযোগ, তিনি হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন এবং উচ্চস্বরে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। উপস্থিত বিজেপি কর্মীদের কেউ কেউ গোটা ঘটনাটি ভিডিও রেকর্ড করেন, যা পরে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। সেই সূত্র ধরেই চিকিৎসক সংগঠন মুখ্যসচিবের হস্তক্ষেপ দাবি করে।
ঘটনার বিষয়ে কৌস্তভ বাগচী বলেন, “রোগী মৃত্যুর ঘটনায় যেভাবে জনরোষ তৈরি হয়েছিল, আমি ছিলাম বলে হাসপাতাল ভাঙচুর হয়নি। চিকিৎসকরা মার খায়নি। হ্যাঁ উচ্চস্বরে কথা বলেছি ঠিকই, কিন্তু আমিই গণ্ডগোল থামিয়েছি। প্যাকেজ বোঝাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এতটাই ব্যস্ত ছিল যে অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেওয়া পরে সেটা যে পরাতে হবে সেই জ্ঞান ওদের ছিল না। এই ঘটনায় হাসপাতাল একে অপরের বিরুদ্ধে দোষ চাপাচ্ছিল, তার ভিডিও রয়েছে। আমি কোন হেনস্তা করিনি। নিজেদের দোষ ঢাকতে আবার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। যা করেছি তাতে আমি বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নই।”
অন্যদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, “রোগীর একবার অ্যাটাক হয়ে গিয়েছিল, এবং নিয়ে আসার পরে ফের একটি অ্যাটাক হয়। চিকিৎসায় কোনও গাফিলতি থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে”।



