
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন ঘিরে চলা বিতর্কের মাঝেই নতুন ইঙ্গিত দিল নির্বাচন কমিশন। জানা যাচ্ছে, এবার হয়তো নথিপত্র না থাকলেও বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে না। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বিজ্ঞাপনে কমিশন জানিয়েছে, স্থানীয় তদন্তের ভিত্তিতে ভোটারদের নাম তালিকায় রাখা হতে পারে।
বর্তমানে বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর লক্ষ্য হল অনুপ্রবেশকারী বা অযোগ্য নাগরিকদের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র যোগ্য ভারতীয়দের নাম অন্তর্ভুক্ত করা।
এই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তি বা নতুন আবেদনকারীদের বাড়িতে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট ফর্ম দেওয়া হচ্ছে, যা পূরণ করে জমা দিতে হবে। এর সঙ্গে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে একটি স্বঘোষিত ঘোষণা (Self Attested Declaration) দাখিল করাও বাধ্যতামূলক।
তবে নাগরিকত্ব প্রমাণে যে ১১টি নথি চাওয়া হয়েছে, তা জোগাড় করা সাধারণ মানুষের পক্ষে বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এই নথির মধ্যে রয়েছে সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার পরিচয়পত্র, ১ জুলাই ১৯৮৭-এর আগে ইস্যু হওয়া সরকারি ডকুমেন্ট, জন্মসনদ, পাসপোর্ট, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্র, বনপালের সার্টিফিকেট, জাতির শংসাপত্র, এনআরসি অন্তর্ভুক্তির প্রমাণ, পারিবারিক রেজিস্টার এবং জমির দলিল।
সমস্যা হল, এই ১১টি নথির একটিও নেই এমন বহু ভোটার রয়েছেন। বিশেষ করে প্রান্তিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষের মধ্যে এই সমস্যা প্রকট। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের ভোটাধিকার হারানোর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞাপন কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, যদি কোনও বৈধ ভোটার প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারেন, তবুও সরাসরি তাঁর নাম বাদ দেওয়া হবে না। বরং ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার স্থানীয়ভাবে তদন্ত করবেন, এবং তিনি যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বৈধ ভোটার বলে মনে করেন, তাহলে তাঁর নাম তালিকায় থেকেই যাবে।
তবে এই ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, স্থানীয় তদন্তের ভিত্তিতে নাম অন্তর্ভুক্তির এই পদ্ধতি দুর্নীতি এবং পক্ষপাতিত্বের সুযোগ তৈরি করতে পারে।



