
বাদল অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সরকারকে চাপে রাখতে কৌশল ঠিক করল ইন্ডিয়া জোট। মঙ্গলবার অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে রাজ্যসভা ও লোকসভার বিরোধী নেতাদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক আয়োজিত হয়। উপস্থিত ছিলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধী। ওই বৈঠকে ঠিক হয়, সাতটি মূল ইস্যুতে মোদি সরকারকে তীব্রভাবে আক্রমণ করবে বিরোধীরা।
এই বিষয়ে এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপাল। তিনি লেখেন, “চলতি অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যুতে মোদি সরকারের জবাবদিহি চাইবে ইন্ডিয়া জোট। এই সাতটি বিষয় দেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এদের উত্তর চাইতেই হবে।” সেই সাতটি ইস্যু হল:
১. পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা।
২. অপারেশন সিঁদুর ও সংঘর্ষবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের বিবৃতি।
৩. বিহারে চলতে থাকা ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR।
৪. সীমান্ত পুনর্বিন্যাস।
৫. দলিত, আদিবাসী ও মহিলাদের বেড়ে চলা অত্যাচার।
৬. আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা।
৭. মণিপুরে জাতিগত হিংসা।
প্রথমে এই আলোচনায় অনীহা দেখালেও, বিরোধীদের চাপের মুখে পিছু হটে পহেলগাঁও হামলা ও অপারেশন সিঁদুর প্রসঙ্গে আলোচনা করতে রাজি হয়েছে সরকার। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, এত গুরুতর বিষয়ের জন্য মাত্র ১৬ ঘণ্টা সময় নির্ধারিত হয়েছে, যার মধ্যে রাজ্যসভায় মাত্র ৯ ঘণ্টা মিলেছে। এছাড়াও বিরোধীরা দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে এই আলোচনায় সংসদে থাকতে হবে। যদিও জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে নির্ধারিত বিদেশ সফরে রয়েছেন, ফলে তাৎক্ষণিকভাবে এই আলোচনার সম্ভাবনা কম।
প্রতিবেশী দেশের দিক থেকে বারবার হামলা, সীমান্ত ইস্যু, এবং অপারেশন সিঁদুর নিয়ে কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছে বিরোধী পক্ষ। এর পাশাপাশি বিহারে ভোটের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁদের অনুপ্রবেশকারী বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
এই সবকটি ইস্যু—SIR, দলিত ও মহিলাদের উপর অত্যাচার, বিমান দুর্ঘটনা এবং মণিপুরের জাতিগত হিংসার মতো ঘটনা সামনে রেখে মোদি সরকারকে চাপে ফেলতে সক্রিয় হচ্ছে বিরোধী শিবির।



