ভোটার তালিকা নিয়ে ক্ষোভ তুঙ্গে, বিহারে ভোট বয়কটের আভাস তেজস্বীর, কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিহারের বিরোধীপক্ষ। কমিশনের বিরুদ্ধে ‘একতরফা’, ‘অগণতান্ত্রিক’ এবং ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আচরণের অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী নেতারা। এই পরিস্থিতিতে বিহারে সম্মিলিতভাবে ভোট বয়কটের পথে হাঁটতে পারে বিরোধী শিবির, যা হলে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল নজির তৈরি হবে।
বুধবার বিহার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ভোট বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব। আর বৃহস্পতিবার তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা মানুষের সঙ্গে কথা বলব। জোটসঙ্গীদের সঙ্গে কথা বলব। তারা যদি চায়, তাহলে ভোট বয়কট করার কথা ভাবা হতে পারে।” পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “এমন একপেশেভাবে পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচনের কোনও অর্থ হয় না।”
এই মুহূর্তে বিহারে চলছে ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’। কমিশনের দাবি, এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হল অনুপ্রবেশকারী বা অযোগ্য ভোটারদের বাদ দিয়ে শুধু বৈধ ভারতীয় নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৫৬ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। হিসেব অনুযায়ী, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে গড়ে ২৩ হাজারের মতো নাম কাটা পড়তে চলেছে, যা ভোটের ফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে বেশিরভাগই সমাজের প্রান্তিক স্তরের মানুষ। কেউ বহু বছর ধরে ভোট দিলেও, কমিশনের চাওয়া নথি তাঁদের কাছে নেই। বাদ পড়াদের একাংশ সংখ্যালঘু এবং সাধারণভাবে বিজেপি বিরোধী মনোভাবাপন্ন। অনেকেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় সরকারের বিরুদ্ধেই ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা ছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া একতরফা এবং পক্ষপাতদুষ্ট, যার ফলে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের প্রকৃত অর্থ হারিয়ে যাচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বয়কটের বার্তা আসলে কমিশনের উপর চাপ বাড়ানোর কৌশল হতে পারে। বাস্তবে বিরোধীরা ভোট বয়কট করবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।



