ঝাড়গ্রামে বিজেপিকে কড়া বার্তা মমতার: ‘দরকার হলে রক্ত দেব, এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না’
স্বপ্নীল মজুমদার

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ইআরও এবং দুইজন এইআরও-কে সাসপেন্ড করার প্রতিবাদে বুধবার ঝাড়গ্রামে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন ঝাড়গ্রাম শহরে বাংলা ভাষার অমর্যাদার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে দীর্ঘ পদযাত্রা শেষ করে পাঁচমাথা মোড়ের পথসভায় তিনি বলেন, “ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।
এভাবে বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে বাংলাদেশি বানানো যাবে না।” বৃষ্টি মাথায় নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর এই পদযাত্রা ও সভায় জনস্রোত ছিল চোখে পড়ার মতো।অসমে এক বাংলা ভাষী গ্রামপ্রধানকে এনআরসি নোটিশ পাঠানোর ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “বাংলা না থাকলে ভারতবর্ষ থাকে না। দরকার হলে রক্ত দেব, কিন্তু এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না।”
বিরোধী দলকে আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, “আমি না মনে করলে আমাকে কেউ সরাতে পারবে না। আপনাদের লোকেরাও আমাকে ভোট দেবে।”

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইলে তা রুখে দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ রাজ্য মানবে না বলেও জানান তিনি। তৃণমূলনেত্রীর মতে, বিজেপি সরকার ভাষা ও পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতি করছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের ভোটার তালিকার দায়িত্বপ্রাপ্ত চার আধিকারিককে সাসপেন্ড করার প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি।
ভোটের মুখে মমতার এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। এদিন শহরের সারদাপীঠ মোড় থেকে পদযাত্রা শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। শহরের মেইন রোড ধরে প্রায় ৩ কিলোমিটার পদযাত্রার পর পাঁচ মাথার মোড়ে পৌঁছে সভা করেন তিনি। এই পদযাত্রার সময় শহরের মোড়ে মোড়ে থাকা বিভিন্ন মনীষীদের মূর্তির পাদদেশে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী।
৭ই আগস্ট ঝাড়গ্রাম শহরে প্রশাসনিক সভার মঞ্চ থেকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপনের সূচনা করবেন বলেও জানান তিনি। পদযাত্রা এবং সভাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, ইন্দ্রনীল সেন, বীরবাহা হাঁসদা, ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূল সভাপতি দুলাল মুরমু সহ ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের বিভিন্ন নেতৃত্ব।



