
পুজোর আগে আবার খুলতে চলেছে কলকাতার রুফটপ রেস্তরাঁ, তবে কড়া শর্তে। আগুন লাগার ঝুঁকি এড়াতেই একাধিক সতর্ক ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য সরকার। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সাফ জানিয়েছেন, “মানুষের প্রাণের বিনিময়ে ব্যবসা চলতে পারে না। ছাড়পত্র চাইলে নিয়ম মানতেই হবে।”
বুধবার তিনি বলেন, “ছাড়পত্র চাই? তা হলে অগ্নি নিরাপত্তা আগে। নতুন করে আমরা কোনও রেস্তরাঁর অনুমোদন দিচ্ছি না। তবে যেগুলি ছিল, সেগুলি পুজোর আগেই চালু হবে। তবে রুফটপ চালু করা হলেও মানতে হবে একাধিক শর্ত। মোট রুফটপের ৫০ শতাংশ খালি রাখতে হবে। যেদিকে হাইড্রোলিক ল্যাডার ঢুকবে রেস্তরাঁর সেই দিকে ৫০ শতাংশ এলাকা খালি রাখতে হবে, যাতে উদ্ধারকাজ করা যায়। মানুষকে বাঁচাতে যা যা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা দরকার, তা রাখতে হবে। রাখতে হবে প্রয়োজনীয় অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা।”
এই শর্ত পূরণের প্রমাণস্বরূপ কাগজপত্র জমা দিতে হবে প্রশাসনের কাছে। এরপর একটি স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে অডিট হবে। সব শর্ত মেনে চলা হলে তবেই রুফটপ রেস্তরাঁ চালু থাকবে, নচেৎ লাইসেন্স বাতিল করে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
প্রwসঙ্গত, বড়বাজারের মেছুয়া এলাকার হোটেল আগুনে ১৪ জনের মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসেছিল সরকার। তখনই ঘোষণা করা হয়েছিল বহুতলের ছাদ বিক্রি করা যাবে না এবং রুফটপ রেস্তরাঁ বন্ধ রাখতে হবে। এরপরই অগ্নিনির্বাপণ নীতিমালা তৈরি করতে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ ‘ফায়ার সেফটি অ্যান্ড রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স’ বিজ্ঞপ্তি জারি করে দুটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। ওই ১৫ সদস্যের কমিটিতে ফিরহাদ হাকিম ছাড়াও ছিলেন বিদ্যুৎ ও আবাসনমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু, পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের মন্ত্রী জাভেদ খানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিক ও পুলিশ কমিশনাররা। এবার সেই ধারাবাহিকতায় রুফটপ রেস্তরাঁর জন্য আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য।



