‘দীর্ঘকালীন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকুন’, সেনাকে বার্তা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

পহেলগাঁও হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। এমন পরিস্থিতিতেই সেনাকে প্রস্তুত থাকার বার্তা দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশের সেনাদের স্বল্প বা দীর্ঘ, যেকোনও ধরনের সংঘাতের জন্য তৈরি থাকতে হবে।
বুধবার মধ্যপ্রদেশে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজনাথ সিং বলেন, “বর্তমান সময়ে যুদ্ধ ভীষণ আকস্মিকভাবে শুরু হয়। ফলে কবে যুদ্ধ শুরু হবে এবং তা কতদিন ধরে চলবে তা কেউ আগাম বলতে পারে না। যুদ্ধ দু’মাস, চার মাস, এক বছর, এমনকি ৫ বছর পর্যন্ত চলতে পারে। ফলে যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে আমাদের প্রস্তুত থাকা উচিত।” পাশাপাশি ভারতের নীতি স্পষ্ট করে তিনি জানান, “ভারত কখনও কারও জমি দখল করতে চায় না। কিন্তু কেউ যদি আমাদের উপর আক্রমণ করে সেক্ষেত্রে ছেড়ে কথা বলার পাত্র আমরা নই। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের মাধ্যমে নিজেদের রক্ষা করতে প্রস্তুত।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান, বায়ুসেনা প্রধান এপি সিং এবং নৌবাহিনীর প্রধান দিনেশ ত্রিপাঠী। তাঁদের সামনেই ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রশংসা করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর কথায়, “এই অভিযান ভারতের দেশিয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, প্রযুক্তি এক উজ্জ্বল উদাহরণ। অপারেশন সিঁদুর দেখিয়ে দিয়েছে আত্মনির্ভরতা এখন শুধু একটি লক্ষ্য নয়, বরং ভবিষ্যতের অপরিহার্যতা। আমরা আত্মনির্ভরতার পথে অনেকটা এগিয়েছি, এখনও অনেক পথ হাঁটা বাকি।”
উল্লেখযোগ্য, গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে লস্করের ছায়া সংগঠন টিআরএফের চার জঙ্গি ২৬ নিরস্ত্রকে হত্যা করে। স্থানীয় এক জঙ্গির সহায়তায় এই হামলা চালানো হয়। তার জবাবে ভারত ৭ মে ভোরে অভিযান চালিয়ে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অন্তত নয়টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে। পাল্টা হামলায় পাকিস্তান ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও সেনাঘাঁটিগুলিকে নিশানা করে। তবে ভারত শুধু প্রতিরোধই নয়, পাল্টা আঘাত হেনে পাকিস্তানের অন্তত ১১টি বায়ু সেনাঘাঁটি ধ্বংস করে। তাতে নিহত হয় ১০০-রও বেশি জঙ্গি ও ৩৫-৪০ জন পাক সেনা। শেষে পাকিস্তানের অনুরোধে সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয় ভারত। তবুও ইসলামাবাদের ভরসাযোগ্যতা নিয়ে সংশয় রয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সেনাদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিলেন রাজনাথ।



