সেনাপ্রধানের চাপে পদত্যাগ নেপালের প্রধানমন্ত্রীর! দেশ ছাড়তে পারেন ওলি?
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

নেপালে গণআন্দোলনের আগুন ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। ছাত্র-যুবদের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ একাধিক শহর। ঠিক এমন সময় সেনাপ্রধান প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইস্তফার দাবি জানান। সেই পরামর্শ মেনে কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছে নেপালি সংবাদমাধ্যম। ইতিমধ্যেই মন্ত্রীদের সেনার হেলিকপ্টারে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে বিমানবন্দর, বাতিল সব ফ্লাইট। পরিস্থিতি কার্যত অগ্নিগর্ভ।
সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেলের পরামর্শে ওলি পদত্যাগ করেছেন বলে খবর। দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি, এমনটাই দাবি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের। শোনা যাচ্ছে, আপাতত উপপ্রধানমন্ত্রীর হাতে দায়িত্ব দিয়ে চিকিৎসার জন্য দুবাইয়ে যেতে পারেন তিনি। এর মধ্যেই অর্থমন্ত্রী বিষ্ণু পৌড়েলকে আক্রমণ করা হয়েছে বলে খবর। সংসদ ভবনের দরজা খুলে দেওয়ায় সেখানে প্রবেশ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
সোমবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে তরুণদের আন্দোলন রাতের মধ্যে হিংসাত্মক রূপ নেয়। পুলিশ ও সেনার বাধা সত্ত্বেও থামেনি বিক্ষোভ। এতে প্রাণ হারান ২১ জন, আহত হন ৩০০-রও বেশি। পরে মধ্যরাতে সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। তবুও আন্দোলন অব্যাহত থাকে। দুর্নীতির অভিযোগে ওলি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ডাক দেন আন্দোলনকারীরা। মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু হলে গুলি চালায় নিরাপত্তারক্ষীরা, এতে দু’জন গুলিবিদ্ধ হন।
চাপে পড়ে ওলি সর্বদলীয় বৈঠকের আয়োজন করলেও সংকট মেটেনি। সব মিলিয়ে তিনি দেশের বাইরে চলে যেতে পারেন বলেই জল্পনা তীব্র হয়েছে। অনেকের মতে, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতোই শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে হতে পারে ওলিকে।



