আন্তর্জাতিক

রক্তবর্ণ সমুদ্র! হরমুজ প্রণালী ঘিরে কৌতূহল, ব্যাখ্যা দিলেন বিজ্ঞানীরা

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

রক্তবর্ণ সমুদ্র! হরমুজ প্রণালী ঘিরে কৌতূহল, ব্যাখ্যা দিলেন বিজ্ঞানীরা - West Bengal News 24

সমুদ্রের জল যেন রক্তে রাঙা। শুধু জল নয়, উপকূলের বালুতটও গাঢ় লাল আভা নিয়েছে। ইরানের উপকূলবর্তী এলাকায় এমনই এক অদ্ভুত দৃশ্য সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন অঞ্চলের এই চিত্র দেখে বিস্মিত গোটা বিশ্ব। জানা যাচ্ছে, প্রবল বৃষ্টির পরেই সমুদ্রের জল ও তটভূমির রং হঠাৎ বদলে যায়। যদিও এটি নতুন কোনও ঘটনা নয় ভারী বর্ষণের সময় মাঝেমধ্যেই এই বিরল দৃশ্যের সাক্ষী হন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা।

তবে প্রশ্ন উঠছে, কেন হরমুজ প্রণালীর জল এমন লাল হয়ে ওঠে? বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই দ্বীপ এবং আশপাশের এলাকার মাটিতে প্রচুর পরিমাণে লোহা রয়েছে। বৃষ্টির জলে লোহার সঙ্গে বিভিন্ন খনিজ উপাদান মিশে গিয়ে সমুদ্রের জল লালচে রঙ ধারণ করে। পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসা জল এই খনিজসমৃদ্ধ মাটি বহন করায় জল ও তটভূমি দু’টিই রক্তবর্ণ হয়ে ওঠে।

বিজ্ঞানীদের মতে, মঙ্গলের লাল মাটির পিছনেও রয়েছে আয়রন অক্সাইডের উপস্থিতি। এই কারণেই হরমুজ দ্বীপকে অনেক সময় পারস্য উপসাগরের ‘রামধনু দ্বীপ’ বলা হয়। বিশেষত আর্দ্র পরিবেশে হেমাটাইট-সমৃদ্ধ মাটি আরও উজ্জ্বল লাল হয়ে ওঠে। কিছু কিছু জায়গায় রঙের তারতম্যও স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে।

এই লাল রং মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এতে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। এই রং সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং ত্বকের জন্য নিরাপদ। যদিও দীর্ঘদিন ধরে পলিমাটির ক্ষয়ের ফলে দ্বীপটির ভূপ্রকৃতিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তা সত্ত্বেও এই রক্তিম দৃশ্য সাময়িক এবং প্রকৃতিরই এক অনন্য সৃষ্টি। তাই এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে ভিড় জমান আলোকচিত্রীরা। ছবির পাশাপাশি আঁকার ক্যানভাসেও ধরা পড়ে এই রং, আর ইন্টারনেটে প্রকাশ পেলেই মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় এমন ভিডিও।

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য