চিকিৎসা নিতেও নারাজ! হাসপাতালে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি, বাড়ছে উদ্বেগ
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

অনশন থেকে সরতে নারাজ শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। জোর করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তিনি অনশন ভাঙেননি। শুধু তাই নয়, চিকিৎসাও নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে শনিবার সফদরজং হাসপাতাল একটি স্বাস্থ্য বুলেটিন প্রকাশ করে জানায়, সোনমের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। ডিহাইড্রেশনের সমস্যাও বেড়েছে।
শনিবার প্রকাশিত সফদরজং হাসপাতালের স্বাস্থ্য বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সোনমের শারীরিক পরীক্ষায় বেশ কয়েকটি উদ্বেগজনক বিষয় ধরা পড়েছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের অনশনের ফলে তাঁর শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। ডিহাইড্রেশনের পাশাপাশি শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতিও দেখা দিয়েছে। যদিও রক্তচাপ, নাড়ির গতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচক আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে, তবে সেগুলি স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। চিকিৎসকদের মতে, সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ ডিহাইড্রেশন এবং পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়া।
আরও পড়ুন :: ‘দলত্যাগীরা ফিরলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দেব!’ একুশে জুলাইয়ের আগে বিদ্রোহীদের বেনজির চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
এছাড়াও, সোনমের রক্তে কিটোনের পরিমাণও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সকালে কিটোনের মাত্রা যেখানে ১+ ছিল, দুপুরের মধ্যে তা বেড়ে ৩+ হয়েছে। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, তিনি যদি অনশন চালিয়ে যান, তাহলে শারীরিক ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। টানা তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অনশনের কারণে তাঁর শরীরে জল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। পটাশিয়ামের মাত্রা আরও কমে গেলে হৃদযন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র এবং পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর চিকিৎসকরা নিবিড় নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, পরিস্থিতি গুরুতর হলেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয়েছে, হাসপাতালে আনার পর তাঁকে IV ফ্লুইড দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। পাশাপাশি কোনও ওরাল ওষুধও নিতে রাজি হননি। এর থেকেই স্পষ্ট, তিনি এখনও অনশন প্রত্যাহার করেননি। চিকিৎসকদের দাবি, এর ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে।



