
তৃণমূল শিবিরে ভাঙনের ছবি যেন এখনও থামছে না। একের পর এক নেতা ও জনপ্রতিনিধি দল ছাড়ছেন। কেউ যোগ দিচ্ছেন বিজেপিতে, আবার কেউ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন টলিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক (Koel Mallick)।
ইস্তফা দেওয়ার পরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির সর্বভারতীয় পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। আর সেই সাক্ষাৎ ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, সুখেন্দুশেখর রায়-সহ তিন সাংসদের মতো কোয়েলও কি এবার বিজেপির হয়ে রাজ্যসভায় যেতে পারেন?
শুক্রবার এই বিষয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে (Samik Bhattacharya) প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, ‘‘কোয়েল-দোয়েল-পায়েল কেউ কোনও বিষয় না। সংবাদমাধ্যমে এটা নিয়ে চর্চা চলছে, চলুক না।”
আরও পড়ুন :: হাওড়া থেকে মাহেশ, দময়ন্তীকে ঘিরে একাধিক সূত্র, জোর তল্লাশি পুলিশের
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন প্রবীণ সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। পরে একই সিদ্ধান্ত নেন আরও দুই সাংসদ সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক।
এরপর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসে। সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে গিয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে তিনজনই পদ্মশিবিরে যোগ দেন। যোগদানের পরপরই তাঁরা রাজ্যসভার টিকিটও পেয়ে যান।
বিধানসভার বর্তমান সংখ্যাতত্ত্ব অনুযায়ী ওই তিনটি আসনে তৃণমূলের পক্ষে প্রার্থী দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ নেই। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফের সংসদের উচ্চকক্ষে যাচ্ছেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক। শুক্রবার বিধানসভার স্পিকার তাঁদের হাতে প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট তুলে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন :: ফেসবুক থেকে মমতা-অভিষেকের ছবি সরিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজীব
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, সদ্য পদত্যাগ করা তারকা সাংসদ কোয়েল মল্লিকও কি একই পথে এগোতে চলেছেন? শুক্রবার এই প্রসঙ্গেই শমীক ভট্টাচার্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়। রাজ্য বিজেপি সভাপতি এর আগেও একাধিকবার বলেছেন, ‘‘বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ হবে না।”
কোয়েলকে বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভায় পাঠানো হবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে শমীক বলেন, ‘‘দেখুন, এ বিষয়ে আমাদের নির্দিষ্ট সংসদীয় দল আছে। তারা এই সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমাদের কাছে কোয়েল-দোয়েল-পায়েল কেউ কোনও বিষয় না। বিষয়টা হল বিজেপি, বিষয়টা হল নরেন্দ্র মোদি। সুখেন্দুশেখর রায়রা স্বেচ্ছায় দল ছেড়ে এসেছেন, তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিতে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তাই তাঁরা বিজেপির হয়ে রাজ্যসভায় গিয়েছেন। কিন্তু সামগ্রিকভাবে আমি দলের তরফে বলছি, বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ হবে না। চর্চা যা চলছে, চলুক।”
শমীকের এই মন্তব্যে কোয়েলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার অবসান হয়নি। বরং তাঁর বক্তব্যের পর বিজেপির সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আরও বেড়েছে।



