রাজ্য

রাইফেল শুটার দময়ন্তী নিখোঁজ রহস্যে যবনিকা! কেন ঘর ছেড়েছিলেন ১৫ বছরের কিশোরী? পুলিশি তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Damayanti Sen Missing Case : রাইফেল শুটার দময়ন্তী নিখোঁজ রহস্যে যবনিকা! কেন ঘর ছেড়েছিলেন ১৫ বছরের কিশোরী? পুলিশি তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য - West Bengal News 24

একরাশ উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঘরে ফিরেছেন হাওড়ার উদীয়মান রাইফেল শুটার দময়ন্তী সেন (Damayanti Sen)। গত ৪৮ ঘণ্টা কোথায় ছিলেন তিনি, তা নিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে তোলপাড়, ঠিক তখনই হাওড়া সিটি পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঠিক কী কারণে মোবাইল বা টাকা-পয়সা ছাড়াই নাইটি পরে ঘর ছেড়েছিলেন ১৫ বছরের এই কিশোরী? জেনে নিন পুলিশি তদন্তে উঠে আসা আসল সত্য।

🔍 কীভাবে উদ্ধার হলেন দময়ন্তী?

তদন্তকারীদের দাবি, শনিবার ভোরবেলা হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাট থেকে ওই শুটারকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তিনি নিজেই বাড়ি ফিরে আসছিলেন নাকি পুলিশ তাকে উদ্ধার করে, তা নিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাড়ি ফেরার পর দময়ন্তী পুলিশকে জানান, এই দু’দিনে তিনি একাধিক জায়গায় ঘুরে বেরিয়েছেন।

আরও পড়ুন :: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই পদক্ষেপ! সেবাশ্রয়ের ‘ভুলে’ পা হারানো মহিলার মামলায় অভিযুক্তদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদ

🧠 মানসিক চাপ নাকি অন্য কিছু? কী জানালেন শুটার দময়ন্তী?

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে দময়ন্তী সেন যে বিস্ফোরক দাবি করেছেন, তা শুনে চোখ কপালে উঠেছে তদন্তকারীদের। দময়ন্তীর দাবি:

  • পড়াশোনা ও খেলাধূলার চরম চাপ: গত বেশ কিছুদিন ধরে পড়াশোনা এবং রাইফেল শুটিংয়ের অনুশীলন নিয়ে মারাত্মক মানসিক চাপের (Mental Stress) মধ্যে ছিলেন তিনি।

  • ক্রমবর্ধমান মানসিক উদ্বেগ: এই জোড়া চাপের ফলে তাঁর মধ্যে ক্রমশ বাড়ছিল মানসিক উদ্বেগ ও অবসাদ।

  • আচমকা সিদ্ধান্ত: সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই নাকি গত বৃহস্পতিবার আচমকা বাড়ি ছেড়ে চলে যান তিনি।

পুলিশ সূত্রের খবর: কিশোরী শুটারের এই দাবি কতটা সত্যি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও করা হতে পারে।

🕒 বৃহস্পতিবার সকালে ঠিক কী ঘটেছিল?

অন্যান্য দিনের মতোই গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা নাগাদ মধ্য হাওড়ার উমাচরণ ভট্টাচার্য লেনের বাড়ি থেকে দুধ কিনতে বেরিয়েছিলেন দময়ন্তী। সেই সময় তাঁর পরনে ছিল নাইটড্রেস। সঙ্গে ছিল না কোনো মোবাইল ফোন বা টাকাপয়সা।

সাধারণত দোকান থেকে ফিরে সকাল ১০টা নাগাদ বাবার সঙ্গে অনুশীলনে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু ১০টা বেজে গেলেও দময়ন্তী বাড়ি না ফেরায় চিন্তায় পড়ে যান বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন। আশপাশে কোথাও খোঁজ না মেলায় শেষমেশ হাওড়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি (Missing Diary) করে পরিবার। বাড়িতে কোনো অশান্তি না হওয়া সত্ত্বেও কেন মেয়ে উধাও হয়ে গেল, তা ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছিল না পরিবার।

📍 ৪৮ ঘণ্টায় কোথায় কোথায় দেখা গিয়েছিল দময়ন্তীকে?

নিখোঁজ হওয়ার পর সিসিটিভি (CCTV) ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে দময়ন্তীর যে রুট ম্যাপ সামনে এসেছে, তা সত্যিই চমকপ্রদ:

  1. বৃহস্পতিবার সকাল: হাওড়া স্টেশন এবং শ্রীরামপুর স্টেশনে দেখা যায় তাঁকে।

  2. শুক্রবার সকাল: শ্রীরামপুরের মাহেশে ঐতিহাসিক রথের মেলায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় এই কিশোরীকে।

শুক্রবার দিনভর সমাজমাধ্যমে দময়ন্তীর এই ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে পড়ে।

👮 সিসিটিভি বিতর্ক ও পুলিশের ৪টি বিশেষ টিম

মেয়ের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘোরার মাঝেই রেল পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন দময়ন্তীর বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, হাওড়া স্টেশন থেকে রেল কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ দিতে দেরি করায় মেয়েকে খুঁজতে সময় নষ্ট হয়েছে। যদিও রেল পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শুক্রবার বিকেলে ভবানীভবনেও যান ধ্রুবজ্যোতি বাবু। এরপরই তৎপরতা বাড়ায় প্রশাসন। হাওড়া সিটি পুলিশের তরফে ৪টি বিশেষ দল (Special Teams) গঠন করা হয়। হাওড়া শহর ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েন গোয়েন্দারা। পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় তল্লাশি শুরু হতেই শনিবার ভোরে শেষমেশ খোঁজ মেলে দময়ন্তীর।

আরও পড়ুন ::

Back to top button