চিকেনস নেক নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে শাহের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উত্তরবঙ্গের সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে এসে সীমান্ত সুরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় তিনি একাধিকবার পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশ এবং নিরাপত্তাজনিত সমস্যার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। সেই পরিস্থিতির জন্য তৎকালীন তৃণমূল সরকারকে দায়ী করার পাশাপাশি বিজেপি ক্ষমতায় এলে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তারও আভাস দিয়েছিলেন। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকে শিলিগুড়ি করিডর, যা চিকেনস নেক নামে পরিচিত, বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে অবস্থিত এই সরু ভূখণ্ডটি ভারতের প্রতিরক্ষা এবং কৌশলগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এত দিন চিকেনস নেকের কাছাকাছি চিন সীমান্তে নজরদারির বিষয়টিই বেশি প্রাধান্য পেত। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও ভুটান সীমান্তও নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় এসেছে। পাশাপাশি নেপাল সীমান্তকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি সূত্রের দাবি, শনিবার উত্তরকন্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে সীমান্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে গুন্ডাদমন আইন, জন্ম-মৃত্যুর নথি ডিজিটাইজ়েশন, অবৈধ ভোটার এবং আধার কার্ড সংক্রান্ত বিষয়ও বৈঠকে উঠে আসে। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহের বিজেপি জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকেরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার রাতে বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছন শাহ। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে কদমতলায় বিএসএফের সদর দফতরে রাত্রিযাপন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শনিবার সকাল থেকেই একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দেন তিনি। উত্তরকন্যার পাশের ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পরিদর্শন করেন শাহ। কাঁটাতার সংলগ্ন জামুড়িয়া ভিটা ও সন্ন্যাসীকাঁটার মতো এলাকাও ঘুরে দেখেন। এরপর শিলিগুড়ির জুমাগাছ বর্ডার আউটপোস্টে গিয়ে বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি বিএসএফের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাসও করেন তিনি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরকন্যার বৈঠকে উত্তরবঙ্গের সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই প্রসঙ্গেই জন্ম-মৃত্যুর নিবন্ধীকরণ ডিজিটাইজ়েশন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। অতীতে ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। সেই কারণে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিকে যুক্ত করা ‘শিলিগুড়ি করিডর’-এর নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিক পদক্ষেপ করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।



