বলিউড

রাজেশ খান্নার সহ-অভিনেত্রীর মর্মান্তিক পরিণতি! ১৭ মাস ফার্মহাউসে পোঁতা ছিল দেহ, বলিউডের এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড স্তব্ধ করে দেবে আপনাকে

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

রাজেশ খান্নার সহ-অভিনেত্রীর মর্মান্তিক পরিণতি! ১৭ মাস ফার্মহাউসে পোঁতা ছিল দেহ, বলিউডের এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড স্তব্ধ করে দেবে আপনাকে - West Bengal News 24

গ্ল্যামার দুনিয়ার ঝাঁ-চকচকে আলোর আড়ালে যে কত অন্ধকার লুকিয়ে থাকে, তার অন্যতম বড় উদাহরণ অভিনেত্রী লায়লা খান (Laila Khan)। বলিউডের প্রথম ‘সুপারস্টার’ রাজেশ খান্নার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করে রুপোলি পর্দায় ঝড় তুলেছিলেন এই রূপসী। কিন্তু কেরিয়ারের সেই সাফল্যের মাঝেই আচমকা নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। দীর্ঘ ১৭ মাস পর যখন তাঁর খোঁজ মিলল, তখন তা দেখে শিউরে উঠেছিল গোটা দেশ। বাবার হাতেই খুন হতে হয়েছিল লায়লা ও তাঁর গোটা পরিবারকে! নাসিকের এক ফার্মহাউসে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল তাঁদের দেহ। বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস ও রোমহর্ষক সেই হত্যাকাণ্ডের খুঁটিনাটি আজ ফিরে দেখল আমাদের এই বিশেষ প্রতিবেদন।

রাজেশ খান্নার সঙ্গে সাহসী দৃশ্য ও রুপোলি সফর

২০০২ সালে কন্নড় ছবি ‘মেকআপ’-এর মাধ্যমে অভিনয় জগতে পা রেখেছিলেন লায়লা খান। তবে তিনি সবচেয়ে বেশি চর্চায় আসেন ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বফা: দ্য ডেডলি লাভ স্টোরি’ (Wafaa: A Deadly Love Story) ছবির মাধ্যমে। ছবিটি বক্স অফিসে সফল না হলেও, ছবির মূল আকর্ষণ ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেতা রাজেশ খান্না। তাঁর বিপরীতে লায়লার বেশ কিছু সাহসী ও ঘনিষ্ঠ দৃশ্য সেই সময় টিনসেল টাউনে ব্যাপক ঝড় তুলেছিল।

আরও পড়ুন :: সৌরভের প্রেমে অন্ধ, আজীবন একাই কাটালেন এই বলিউড অভিনেত্রী

নিখোঁজ পরিবার: ওশিয়ারা থেকে নাসিকের ফার্মহাউস

২০১১ সালে আচমকাই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান লায়লা খান, তাঁর মা সেলিনা এবং পরিবারের আরও ৪ সদস্য। মুম্বইয়ের ওশিয়ারা এলাকার বাসিন্দা লায়লার মা সেলিনা পারভেজ ‘তাক’ নামের এক ব্যক্তিকে তৃতীয় বিয়ে করেছিলেন। এই নতুন স্বামীর সঙ্গে লায়লার সম্পর্ক একেবারেই ভালো ছিল না। বিশেষ করে সম্পত্তিগত বিবাদের জেরে পরিবারের অন্দরে তৈরি হয়েছিল তীব্র অশান্তি। এক সময় অভিমানে দুবাইতেও চলে যান লায়লা। কিন্তু ততদিনে সেলিনার তৃতীয় স্বামী তাক তৈরি করে ফেলেছিল এক ভয়ঙ্কর ব্লুপ্রিন্ট।

বার্বিকিউ পার্টি ও সেই অভিশপ্ত রাতের গল্প

তদন্তে নেমে প্রাক্তন মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিক আম্বাদাস পোতে এবং প্রখ্যাত সাংবাদিক হুসেন জাইদির তথ্যে উঠে আসে এক হাড়হিম করা সত্যি। জানা যায়, লায়লাদের নাসিকের ফার্মহাউসে আগে থেকেই নিজের এক সহযোগীকে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে নিয়োগ করেছিল তাক, যাতে তাঁদের প্রতি মুহূর্তের গতিবিধির ওপর নজর রাখা যায়।

এরপর একদিন পরিবারের সকলকে নিয়ে ওই ফার্মহাউসে যায় তাক। সেখানে সন্ধেবেলা নাচগান এবং বার্বিকিউ পার্টির আয়োজন করা হয়। কেউ কল্পনাও করতে পারেননি, এই আনন্দই তাঁদের জীবনের শেষ রাত হতে চলেছে। গভীর রাতে হঠাৎ করেই লোহার রড ও ছুরি নিয়ে পরিবারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাক ও তার সহযোগী। লায়লার ভাই রক্তাক্ত অবস্থায় সবাইকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। লায়লা, তাঁর মা সেলিনাসহ পরিবারের ৬ জনকেই নির্মমভাবে খুন করা হয়।

আরও পড়ুন :: তিন সুপারস্টারেও ফ্লপ, ৩৪ বছর আগে যে সর্বভারতীয় ছবি প্রযোজককে দেউলিয়া বানিয়েছিল

সুইমিং পুলে ১৭ মাসের সমাধি ও পুলিশের তদন্ত

হত্যাকাণ্ডের পর প্রমাণ লোপাটের জন্য নৃশংসতার সব সীমা পার করে খুনিরা। ফার্মহাউসের ভেতরে সুইমিং পুল বানানোর জন্য একটি গর্ত খোঁড়া হয়েছিল।

  • প্রথমে সেই গর্তে ৩টি মৃতদেহ রাখা হয়।

  • তার ওপর বালিশ ও তোষক চাপা দেওয়া হয়।

  • তার ঠিক ওপরে রাখা হয় বাকি ৩টি দেহ।

  • সবশেষে মাটি ও পাথর দিয়ে তা বুজিয়ে দেওয়া হয়।

দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে এই রহস্যের জট খোলেনি। অবশেষে ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্তকারীরা যখন নাসিকের সেই ফার্মহাউসে পৌঁছন, তখন অঝোরে বৃষ্টি পড়ছিল। কিন্তু ওই সদ্য বোজানো সুইমিং পুলের জায়গাটি দেখেই সন্দেহ হয় অফিসারদের। টানা ৬ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি ও মাটি খোঁড়ার পর উদ্ধার হয় ৬টি কঙ্কাল। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এগুলি লায়লা খান ও তাঁর পরিবারেরই কঙ্কাল।

‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’: আদালতের ঐতিহাসিক রায়

তদন্তের পর পুলিশ লায়লার সৎ বাবা তাক-কে গ্রেপ্তার করে। জেরার মুখে নিজের অপরাধ স্বীকার করে সে। দীর্ঘ ১৩ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর আদালত এই ঘটনাকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ (Rarest of Rare) বলে আখ্যা দেয়। বিচারকের মতে, এটি ছিল অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে করা একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। আর সেই কারণেই অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায় আদালত। গ্ল্যামার ও প্রতিভার এক অকালমৃত্যুর এই ট্র্যাজিক কাহিনি আজও বলিউড মহলে এক বড় আতঙ্ক হিসেবে রয়ে গেছে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button