স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই পদক্ষেপ! সেবাশ্রয়ের ‘ভুলে’ পা হারানো মহিলার মামলায় অভিযুক্তদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদ
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

সেবাশ্রয়ের ভুল চিকিৎসার কারণে মর্মান্তিক পরিণতির মুখে পড়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলার বাসিন্দা মালতী বিশ্বাস। অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলতির জেরে তাঁকে চিরদিনের জন্য একটি পা হারাতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হওয়ার পর রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই প্রশাসনের দ্বারস্থ হয় তাঁর পরিবার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এবার মামলার একাধিক অভিযুক্তকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, চলতি মাসের ৯ তারিখ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ জমা পড়ার পরই প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়। মালতী বিশ্বাসের পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য ভবনে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। ভুক্তভোগীর পরিবারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীও তাঁদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন।
আরও পড়ুন :: অর্ডার বাতিল, তবু ১৪৫৭ টাকা ক্যানসেলেশন চার্জ! মারাত্মক চটলেন মহুয়া মৈত্র
এর পাঁচ দিনের মধ্যেই এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্তের কাজ শুরু করেছে পুলিশ। শুক্রবার খোকন বেহরা-সহ কয়েকজন অভিযুক্তকে রবীন্দ্রনগর থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সূত্রের দাবি, মহেশতলা এলাকায় সেবাশ্রয়ের কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মাধ্যম হিসেবে কাজ করতেন খোকন বেহরা। শুক্রবার তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা।
এর আগে সেবাশ্রয়ে হাতুড়ে কিংবা প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকদের দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করানো এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণের মতো একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছিল। রাজ্যে পালাবদলের পর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই স্বাস্থ্য পরিষেবাকে ঘিরে আরও বহু অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। সম্প্রতি সামনে আসে মালতী বিশ্বাসের পা হারানোর ঘটনাও।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার আক্রার বাসিন্দা মালতী বিশ্বাস হাঁটুর ব্যথার চিকিৎসার জন্য সেবাশ্রয়ের একটি ক্যাম্পে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, প্রাথমিক পরীক্ষার পর তাঁকে কয়েকটি ওষুধ দেওয়া হয়। ওই ওষুধ সেবনের পর তাঁর হাঁটুর ব্যথা আরও মারাত্মক আকার নেয়। ফের সেবাশ্রয়ে গেলে তাঁকে এমআর বাঙুর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন :: বিজেপির টিকিটে কি ফের রাজ্যসভায়য় কোয়েল? শমীকের মন্তব্যে বাড়ল জল্পনা
পরিবারের অভিযোগ, এমআর বাঙুর হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, ভুল চিকিৎসার কারণে তাঁর পায়ের পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠেছে। এরপর তাঁকে পার্ক সার্কাসের চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে রেফার করা হয়। শেষ পর্যন্ত ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁর পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে পাঠানোর ‘রেফার রোগে’ দিনের পর দিন তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত তাঁর পা কেটে বাদ দিতে হয়।
রাজ্যে পালাবদলের পর মালতী বিশ্বাসের পরিবার রবীন্দ্রনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করে। পরে বিষয়টি স্বাস্থ্য দপ্তর পর্যন্ত পৌঁছায়। গত সোমবার প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন মালতী বিশ্বাসের স্বামী ও ছেলে।
পরিবারের অভিযোগ, এমন করুণ পরিণতির পর তাঁরা একাধিকবার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সেবাশ্রয় ক্যাম্পের ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এবার মামলায় অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হওয়ায় তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের। পুলিশের তদন্ত কি শেষ পর্যন্ত আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছেও পৌঁছাবে, সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।



